চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির রেকর্ড
• ২০২৫ সালে মার্কিন পণ্যে শুল্ক আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭৮৭ কোটি টাকা
• ২০২৪ সালে আমদানিতে শুল্ক আদায় হয়েছিল ৮৪২ কোটি টাকা
• চলতি বছরের ৯ মাসে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা
• তিন বছরে ৮৫ হাজার ৫৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার পণ্য আমদানি

বাণিজ্য বাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যের শুল্কে রেকর্ড হতে যাচ্ছে চলতি বছর। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ মাস ১৪ দিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যে শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে পুরো ১২ মাসে শুল্ক আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭৮৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ইতিমধ্যে ৫৫১ কোটি টাকা বেশি শুল্ক আদায় হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে প্রাপ্ত নথি বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। বাকি এই আড়াই মাসে পণ্য আমদানিতে ‘বেশ বড় রেকর্ড’ হবে বলে মনে করছেন বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নথি বলছে, গত তিন বছরে ৮৫ হাজার ৫৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। ১ কোটি ৯ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৯ টন ৫৬ কেজি আমদানি পণ্য দেশে এসেছে। একই সঙ্গে শুল্ক আদায়ও বেড়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পণ্য আমদানি হয়েছে ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ১৬০ টন ৩৮ কেজি। ২০২৫ সালে পুরো ১২ মাসে পণ্য আমদানি হয়েছিল ৩৭ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৭ টন ৫৭ কেজি। একইভাবে ২০২৪ সালে পণ্য আমদানির পরিমাণ ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৪১ টন ৬১ কেজি।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ শরীফ আল আমিন বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর রপ্তানির পাশাপাশি আমদানিও হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে; পাশাপাশি চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোও আমাদের অন্যতম ব্যবসায়িক অংশীদার।’
মার্কিন পণ্য থেকে শুল্ক
গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর প্রায় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা শুল্ক আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি করা এসব পণ্যের বিপরীতে উল্লিখিত শুল্ক আদায় হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ মাস ১৪ দিনে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে শুল্ক আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭৮৭ কোটি ২০ লাখ। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে শুল্ক আদায় হয়েছিল ৮৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পণ্য আমদানিতে ৫৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা কম শুল্ক আদায় হলেও পণ্য আমদানি বেড়েছে। এ সময়ে পণ্য আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৫ টন ৯৬ কেজি।
তথ্যমতে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ছিল ২৬ হাজার ৯৮১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হলো ২৭ হাজার ৫৭৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি করা পণ্যের শুল্কায়ন
এরপর পৃষ্ঠা ৭ কলাম ৭
মূল্য ৩১ হাজার ৩২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তিন বছরে ৮৫ হাজার ৫৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার পণ্য আমদানি হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
যা আমদানি হচ্ছে
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দেশটি থেকে বিপুল পণ্য আমদানির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের আরও সহায়তা পাওয়ার কথা সামনে এনেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। গত বুধবার ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে; আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলো এয়ারক্রাফট কিনছি; তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য ও কমোডিটি আমদানি করছি।’
অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর তিন বছরের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্ক আদায় আগের দুই পূর্ণ বছরের হিসাব ছাড়িয়ে গেছে। তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, গম, সয়াবিন, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন, জৈব রাসায়নিক, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, পশুখাদ্য, খাদ্যের অবশিষ্টাংশ, যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক চুল্লি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি। এ ছাড়া উড়োজাহাজ, জাহাজের কাঠামো, উড পাল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, পারফিউম, প্রসাধনী, গাড়ি, বাদাম, ডিম, মধু, সাবান, মোম, পাখির চামড়া ও পালক, সালফার, পাথর, সিমেন্ট, রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, তামাক, বই, খেলনা, অ্যালুমিনিয়াম, সার, কফি, বাদ্যযন্ত্র, সিরামিকের তৈরি পণ্য, জিংক, কপারসহ আরও নানা ধরনের পণ্য আমদানি করা হয় দেশে।
উড়োজাহাজ আমদানি শুরু করলে আমদানির পরিমাণ আরও অনেক বাড়বে জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে। প্রচুর আমদানি করছি। রপ্তানিও হচ্ছে উল্লেখ করার মতো হারে। তবে রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমাদের আরও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচিত।’









