Ajker Patrika

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ অলি আহমদের

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ অলি আহমদের
অলি আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই অভিযোগ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও বার্তায় অলি আহমদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে কারচুপির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে হাশিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাশিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার পর অপরিচিত কয়েক শ লোক প্রবেশ করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ঢুকিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এলডিপি সভাপতি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার পর তাঁর দলীয় নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় এবং মারধর করে বের করে দেয়। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অলি আহমদ অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদ ছয়-সাতটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন এবং সন্ধ্যার আগে ও পরে প্রায় ৩০-৪০টি মাইক্রোবাস ও ট্রাক নিয়ে উপজেলা সদর এলাকায় মিছিল করেন। সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতি সত্ত্বেও জসিম উদ্দীনকে বাধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় অলি আহমদ বলেন, তাঁর কর্মীদের সুশৃঙ্খল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একতরফাভাবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর ছেলে ও প্রার্থী ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁদের এজেন্টরা চ্যালেঞ্জ করলেও বাতিলের কারণ দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে এটাই বলব, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আপনাদের অবগতির জন্য এটা জানাতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন, প্রফেসর ওমর ফারুক পরাজিত হয়েছে, ড. কর্নেল অলি আহমদ পরাজিত হয়েছে, আমরা পরাজিত হই নাই। আল্লাহর মেহেরবানি, আমার নবীর দয়া মুক্তিযোদ্ধা কখনো পরাজিত হয় না, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কখনো পরাজিত হয় না। পরাজিত হয়েছে টাকা এবং আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু লোক।’

সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘সকলকে অনুরোধ করব, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আপনারা দিন কাটাবেন। কারও সাথে কেনো ঝগড়া করার প্রয়োজন নাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালালেও প্রশাসন নীরব রয়েছে। প্রশাসনের এলাকায় টহল জোরদার করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘ওমর ফারুকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রার্থীরা, যারা এক থেকে দেড় হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছে, এটা সুপরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে এ কাজটি করা হয়েছে। আমরা পরাজিত হই নাই, পরাজিত হয়েছে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ।’

পরিশেষে অলি আহমদ বলেন, ‘আমি সারা জীবন মানুষের খেদমত করেছি। আমার এই খেদমত মরণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আমার ছেলে সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে। আমরা নির্বাচনে জিতলাম কি জিতলাম না, এটাতে কিছু আসে যায় না। জনগণের সেবায় আমি এবং আমার পরিবার সদাসর্বদা নিয়োজিত থাকব। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সুন্দর জীবন এবং সাফল্য কামনা করি। সবাইকে বলব উচ্ছৃঙ্খলতা পরিহার করুন। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত