
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে জোটের প্রার্থীসহ ১৯টিতে জয় পেয়েছে দলটি। সবচেয়ে বেশি চমক দেখা গেছে বরিশাল জেলায়। এখানকার ছয়টি আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকেরা এ ফলাফলের পেছনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তা হলো: দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বিকল্প শক্তির অনুপস্থিতি, বিএনপির নেতৃত্বে আস্থা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি অনীহা এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরা।
বরিশাল-৫: হাতপাখাকে ধরাসায়ী চরমোনাই পীরের বাড়ি হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (মহানগর ও সদর) আসনে শুরু থেকেই জয়ের আশায় মাঠে নামে ইসলামী আন্দোলন। দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমকে নিয়ে জোর প্রচারণা চালানো হয়। তবে ধানের শীষের জোয়ারে টিকতে পারেনি হাতপাখা। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট।
ফয়জুল করীমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, প্রত্যাশিত সাড়া মিললেও ফল অপ্রত্যাশিত। তিনি আন্তর্জাতিক ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগও তোলেন।
বরিশাল-৪: তরুণ ভোটে এগিয়ে এই আসনে জয়ের আশা নিয়ে দলটির আমির সফর করেছিলেন। কিন্তু এখানেও বিএনপি বড় জয় পায়।
বরিশাল-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী রাজীব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে, এ অঞ্চলের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসেন। ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লা আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কারণ, বিএনপি সাধারণ মানুষের দল। তবে বড় প্রভাব পড়েছে তারেক রহমান দেশে ফিরে দলের হাল ধরায়।
ভোলায় চার আসনেই জোটের জয়
শুধু বরিশাল জেলা নয়, দ্বীপ জেলা ভোলার চারটি আসনেও বিএনপি জোট জয় পেয়েছে। এমন ফলাফলে হতভম্ব জামায়াত। ভোলা-৪ (মনপুরা-চরফ্যাশন) আসনে ধানের শীষের নুরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩৭ ভোট।
ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত হওয়ায় এ সাফল্য এসেছে।’
এদিকে বরগুনার ২টি আসনের মধ্যে ১টি এবং পিরোজপুরের ৩টি আসনের মধ্যে ২টিতে বিজয় লাভ করেছে বিএনপি।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক কাজী জাবের হোসেন বলেন, জনগণ পরিবর্তনের চেয়ে বিএনপির পুরোনো নেতাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন। কারণ, বিএনপি মধ্যমপন্থী দল এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। সাংগঠনিকভাবেও বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে বহু আগে থেকে কাজ করেছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব বিএনপির বড় জয়ের অন্যতম কারণ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই শতাধিক আসনে জয়ে উচ্ছ্বসিত বগুড়াবাসী। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বগুড়াজুড়ে দেখা দিয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস যেন উপচে পড়ছে। তাঁদের অনেকেই মনে করছেন, দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু দলীয় প্রধান নন, প্রধানমন্ত্রীও হতে যাচ্ছেন।
৩০ মিনিট আগে
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৮টিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। অন্য ১১টি আসনে জিতেছে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা। ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই এই আসনগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা সামনে এসেছে।
২ ঘণ্টা আগে
গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে গত দশক পর্যন্ত বিএনপির সম্মুখসারির মুখ ছিলেন ফরিদপুরের দুই কিংবদন্তি। তাঁদের একজন কে এম ওবায়দুর রহমান, অপরজন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। এই দুই নেতার প্রয়াণের পর ফরিদপুরে বিএনপির রাজনীতিতে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছিল।
৪ ঘণ্টা আগে
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। অপর দিকে পোস্ট দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী এনসিপি নেতা আখতার হোসেন।
৫ ঘণ্টা আগে