Ajker Patrika

ইমিটেশনের চুড়ি রেখে ৯৯ ভরি সোনা আত্মসাৎ, সেলসম্যানসহ দুজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৩০
ইমিটেশনের চুড়ি রেখে ৯৯ ভরি সোনা আত্মসাৎ, সেলসম্যানসহ দুজন গ্রেপ্তার
উদ্ধার করা সোনার চুরি। ছবি: পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা প্রায় ৯৯ ভরি ওজনের ৫৫টি সোনার চুড়ি উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানার পুলিশ। এ ঘটনায় দোকানের সেলসম্যান রোমেন দে (৩৬) ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী শ্যামল সিংহকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। আজ শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণালংকার উদ্ধারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

উদ্ধার হওয়া ৫৫টি সোনার চুড়ির মোট ওজন ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম, যা প্রায় ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তির সমান। এসব স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, নগরের প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামের একটি দোকান রয়েছে। এর মালিক বিপ্লব বসাক (৫৩)। সেখানে রোমেন দে ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন।

পুলিশ জানায়, ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের কর্মীরা সোনার মজুতের হিসাব মেলাতে গিয়ে অসংগতি দেখতে পান। বিষয়টি মালিককে জানানো হলে তিনি দোকানে আসার জন্য রওনা হন। বিষয়টি বুঝতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে দোকান থেকে পালিয়ে যান।

পরে মজুত পরীক্ষা করে দেখা যায়, রোমেনের দায়িত্বে থাকা সাতটি বাক্স থেকে ৫৫টি সোনার চুড়ি নেই। এসব চুড়ির পরিবর্তে বাক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন দোকানের মালিক। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

ওসি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা চুড়িগুলোর মধ্যে ৪৬টি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মডার্ন ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, শ্যামলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর দোকানসহ নগরের বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে সোনার চুড়িগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শ্যামলের কাছ থেকে ৪৬টি ও রোমেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৫টি সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারগুলো মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত