Ajker Patrika

জ্বালানি তেল: চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমানো হয় ২৫ শতাংশ

  • ডিলার ও পাম্প পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি
  • পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছেন, এক সপ্তাহে তেলের এ সংকট মিটে যাবে
 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯: ১৩
জ্বালানি তেল: চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ 
কমানো হয় ২৫ শতাংশ
জ্বালানি তেলের কালোবাজারি, অবৈধ মজুতসহ অন্যান্য অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গতকাল মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিপোতে কড়া পাহারায় সেনাসদস্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদ মৌসুমে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেশি থাকলেও ডিলার ও পাম্প পর্যায়ে ২৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। এ কারণে এবার ঈদের আগে-পরে যানবাহনে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে দাবি এই খাতসংশ্লিষ্টদের।

একাধিক পেট্রলপাম্পের মালিক বলছেন, এমনিতে প্রতিবছর জ্বালানি তেলের চাহিদা ১০-১৫ শতাংশ বেড়ে যায়। তা ছাড়া ঈদে এ চাহিদা আরও ১০ শতাংশের মতো বাড়ে। এ কথা স্বীকার করেন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুল ইসলামও।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স এজেন্ট পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি আবু তৈয়ব বলেন, তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের গড় বিক্রি হিসাব করে তার থেকে ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করছে ওই তিন কোম্পানি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এটি করা হয়।

জ্বালানি তেলের এই ব্যবসায়ী বলেন, এর মধ্যে ঈদের আগে-পরে পরিবহন চলাচল ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা আনুমানিক ১০ শতাংশ বাড়ে। দুই উপলক্ষ মিলিয়ে ২৫ শতাংশ জ্বালানির চাহিদা বাড়লেও তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ২৫ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা প্রতিদিনই দৃশ্যমান হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিপিসির কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। নিচের দিকের দু-একজন কর্মকর্তা ফোন ধরলেও তাঁদেরকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার জন্য ওপরের নির্দেশ রয়েছে বলে জানান।

আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের কাছে কয়েকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালে তিনি দেখলেও কোনো জবাব দেননি।

এদিকে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিলার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সোনাপাহাড় এলাকার পেট্রলপাম্প মেসার্স ফেবো অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির মালিক মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমার পাম্পে দৈনিক দুই গাড়ি তেলের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে এক গাড়ি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাম্পগুলোতে ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি।’

একইভাবে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের আরেক ডিলার মেসার্স মিরসরাই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের গড় হিসাব করে ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করছে।

চট্টগ্রাম নগরীর আরাকান রোডে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিলার মেসার্স এবি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার অঞ্জন দাশ জানান, ২৫ মার্চ এক গাড়ি তেল পেয়েছেন; ২৯ মার্চ (আজ রোববার) হয়তো আরেক গাড়ি পাবেন। তিনিও বলেন, ‘ডিপো থেকে আমাদের ২৫ শতাংশ তেল কম সরবরাহ করছে। এতে অনেক সময় আমাদের ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ডিলার ও পেট্রলপাম্প মালিকদের ২০২৫ সালের মার্চ মাসের জ্বালানি তেল বিক্রির হিসাব অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে। একই নিয়মে গতকাল শনিবারও ডিলারদের তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

মফিজুল ইসলাম আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবে ঈদ ঘিরে ১০-১৫ শতাংশ তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে এ সংকট মিটে যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগ নেতারা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন, মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতেন না: আব্দুল মোমেন

তৃতীয় মাত্রার জিল্লুরের সহধর্মিণী পেলেন বিএনপির মনোনয়ন

মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

দুর্নীতি করলে ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না, আজও একজনকে বিদায় দিয়েছি: শিক্ষামন্ত্রী

ছুরিকাহত জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালক ঢামেকে ভর্তি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত