Ajker Patrika

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ১০ দিন ধরে অচল চুয়েট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ১০ দিন ধরে অচল চুয়েট
আন্দোলনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে টানা ১০ দিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। আজ বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পঞ্চম দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে। এর সঙ্গে একাত্ম হয়ে কর্মবিরতিতে রয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম।

অন্যদিকে, ২১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পাওয়া নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম এখনো ক্যাম্পাসে গিয়ে নিজ কার্যালয়ে বসতে পারেননি। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সায়েমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে শুরু হয় কমপ্লিট শাটডাউন। প্রথমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থাকলেও পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এতে যুক্ত হন। আন্দোলনের ১০ দিনে ক্যাম্পাসে পালিত হয়েছে একের পর এক কর্মসূচি। বিক্ষোভ মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, ‘৫৬’ লেখা কার্ড নিয়ে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, মুখোশ মিছিল, পরিচয়পত্র প্রদর্শন এবং সর্বশেষ চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার নবম দিনে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করে প্রশাসনের নীরবতার প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না গিয়ে অনলাইনে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদান করেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন তিনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, পরিস্থিতির কারণে তাঁকে সার্কিট হাউসে থাকতে হচ্ছে। পরিস্থিতি শিগগির স্বাভাবিক হবে এবং তখন ক্যাম্পাসে গিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন বলে তিনি আশা করছেন। তবে আন্দোলনকারীরা তাঁর এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।

এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারজুকা চৌধুরী মাহিরা জানান, সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও (১ অক্টোবর) আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত