Ajker Patrika

ফটিকছড়িতে এলপিজি ফিলিং স্টেশনেই রিফিল হচ্ছে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার!

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
ফটিকছড়িতে এলপিজি ফিলিং স্টেশনেই রিফিল হচ্ছে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার!
এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস রিফিল করা হচ্ছে রান্নার সিলিন্ডারে। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হেঁয়াকো বেগবাজার এলাকায় একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে রান্নার সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস ভরা হচ্ছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন আশপাশের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে গ্যাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও অনেকেই ওই স্টেশন থেকে রান্নার সিলিন্ডার রিফিল করছেন। বাজারজাত সিলিন্ডারে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ কেজি গ্যাস থাকে। তবে স্টেশনটিতে ১৫ থেকে ১৬ কেজি পর্যন্ত গ্যাস ভরা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্টেশন থেকে রিফিল করা গ্যাস বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমে বিক্রি করা হয়। এ কারণে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেকে সেখানে গ্যাস নিতে যান।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারে ৮০০ টাকার গ্যাস নিচ্ছেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস ভরার জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা দিচ্ছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গ্যাস রিফিলের কাজে নিয়োজিত বিক্রয়কর্মী কামরুল হোসেন বলেন, ‘মালিক যেভাবে বিক্রি করতে বলেছেন, সেভাবেই বিক্রি করি। অনুমতিপত্র আছে কি না, সেটা জানি না।’

হেঁয়াকোর এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী শফিউল আলম ও আবু তাহের বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর ফিলিং স্টেশনের মালিক আবুল কালাম আজাদকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি মানতে নারাজ।

এলপিজি বিধিমালা, ২০০৪-এর বিধি ১০৮ অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত এলপিজি বিতরণ স্টেশন বা ডিসপেন্সিং স্টেশন থেকে মোটরযান কিংবা অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিনের সঙ্গে সংযুক্ত জ্বালানি ধারণপাত্র ছাড়া অন্য কোনো বহনযোগ্য পাত্রে এলপিজি ভর্তি করা যাবে না।

আইন অমান্য করলে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ রান্নার সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘সরকারের যথাযথ অনুমোদন নিয়ে গ্যাস বিক্রি করছি। আমরা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি করছি না। এলাকার অসহায়-গরিব মানুষের সহায়তার জন্য গ্যাস দিয়ে থাকি।’

এলপিজি খাতের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গাড়ির জ্বালানি ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজির ব্যবহারপদ্ধতি এক নয়। অনুমোদিত পদ্ধতির বাইরে রান্নার সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, ‘এ ধরনের কাজ বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ইউএনও সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘এভাবে গ্যাস সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করার কোনো সুযোগ নেই। এটি একই সঙ্গে আইনের লঙ্ঘন। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত