Ajker Patrika

চট্টগ্রামে নারী পোশাককর্মী হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে নারী পোশাককর্মী হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেডে নারী পোশাককর্মী জয়নব বেগমকে হত্যার মামলায় জলিল শরিফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ রোববার চট্টগ্রাম প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফরিদা ইয়াসমিনের আদালত এই রায় দেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জলিল শরিফের বয়স ৫৭ বছর। তিনি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার পুটিয়াখালী গ্রামের মোফাজ্জল শরিফের ছেলে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. নাসির উদ্দিন ভুঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, হত্যা মামলায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালের ৩ মার্চ নগরের ইপিজেড থানার ব্যাংক কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে জয়নব বেগমের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।

পরদিন ব্যাংক কলোনির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউনুছ ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের তদন্তে জয়নব বেগমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে। পরে প্রতিবেশী জলিল শরিফকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জলিল শরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রোববার রায় দেওয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, খুনের সাজা সাধারণ মৃত্যুদণ্ড হয়ে থাকে। তবে নানাবিধ কারণে সাজা যাবজ্জীবন হতে পারে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় খুনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা আছে।

আদালত আরও বলেন, জলিল শরিফের বয়স, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, অপরাধের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়াই সমীচীন। মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আদালত মনে করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত