Ajker Patrika

চট্টগ্রাম বন্দর অচল, লাগাতার কর্মবিরতি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৪৮
চট্টগ্রাম বন্দর অচল, লাগাতার কর্মবিরতি শুরু
বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেইটে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কাজ অচল রয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে তারা এই কর্মসূচি শুরু করে।

সকাল ৯টার দিকে দেখা গেছে, বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেটে সতর্ক অবস্থানে আছে পুলিশ। বন্দরের অভ্যন্তরে গাড়ি প্রবেশের সংখ্যা একেবারেই কম।

তথ্যমতে, সকাল ৮টা থেকে বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরে (আউটার লাইটারেজ) পরিচালন কাজ বন্ধ রয়েছে। কর্মবিরতির কারণে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

গতকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা পরিষদের বাকি তিনটি দাবি হচ্ছে—চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া।

এই বিষয়ে বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, আজ সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।

বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেইটে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেইটে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘গতকাল (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আমাদের শ্রমিকনেতাদের হয়রানি করা হচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। আমাদের দুই শ্রমিকনেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে গেছে। এসব করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

তথ্যমতে, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ৮ ঘণ্টা করে এবং ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালন করেছেন তাঁরা। নৌ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে দুই দিনের জন্য (গত শুক্র ও শনিবার) কর্মসূচি স্থগিত করেন। উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে এবার আওতা বাড়িয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিকনেতারা।

এদিকে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরে নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সব সময় সতর্ক রয়েছি।’ বন্দর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত