Ajker Patrika

উচ্ছেদের আশঙ্কায় সাড়ে ৪০০ পরিবার, আশ্রয় রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৩০
উচ্ছেদের আশঙ্কায় সাড়ে ৪০০ পরিবার, আশ্রয় রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ
মেরিন একাডেমি থেকে শাহাদাত নগর এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ভূমিহীন পরিবারগুলো। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে তাঁদের বাস প্রায় ৪০ বছর ধরে। এতগুলো বছর ধরে ভূমিহীন এই ৪০০ পরিবার এখানে তাঁদের হাসি, কান্না আর ভালোবাসার গল্প বুনেছেন। আজ সড়ক নির্মাণের জন্য উচ্ছেদের আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছে বুক। পুনর্বাসনের কোনো রকম ব্যবস্থা ছাড়া এই উচ্ছেদ তাঁরা মেনে নিতে নারাজ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মেরিন একাডেমি থেকে শাহাদাত নগর এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে তাঁরা পুনর্বাসন ও আশ্রয় রক্ষার দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ভূমিহীন পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী বাসিন্দা বখতিয়ার খান, মোহাম্মদ হান্নান, মোহাম্মদ মিরাজ, সাগর, বাপ্পু, বাদশা, নাদির, ইউনুচ, সিদ্দিকা, সিরাজ, জালাল, আকতার উদ্দিন, আশরাফ উদ্দিন, ইদ্রিস, আফজাল, জাহাঙ্গীর আলম, এয়াকুব ও মাসুদ।

বিক্ষোভে ভূমিহীন নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও অংশ নেয়।

মেরিন একাডেমি থেকে শাহাদাত নগর এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ভূমিহীন পরিবারগুলো। ছবি: আজকের পত্রিকা
মেরিন একাডেমি থেকে শাহাদাত নগর এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ভূমিহীন পরিবারগুলো। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিক্ষোভকারীরা বলেন, মেরিন একাডেমি সড়ক নির্মাণের জন্য এর আগে দুইবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় তখন প্রায় সাড়ে ৪০০ অসহায় পরিবার বিপাকে পড়ে। এ অবস্থায় তাঁরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে তাদের ‘মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়’ রক্ষার আবেদন জানায়।

ভুক্তভোগী বাসিন্দা বখতিয়ার খান বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আমাদের পরিবার এখানে বাস করছে। এর আগেও সড়ক নির্মাণের জন্য আমাদের ঘরবাড়িতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়কের জন্যও আমরা স্বেচ্ছায় ২৯ ফিট জমি ছেড়ে দিই। এরপর নতুন আতঙ্ক প্রভাবশালী মহলের। গত দুই দিন আগে সীমানা পিলারের খুঁটি বসিয়ে যায় আমাদের বসতঘরের মধ্যে। এখন মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় রক্ষায় সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তা কামনা করছি আমরা।’

ভুক্তভোগী নারী কুলসুমা বেগম বলেন, ‘আমরা ভূমিহীনরা এখানে ঘর নির্মাণ করে স্বামী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে থাকছি। আমাদের পুনর্বাসন করুন, আমাদের থাকার জায়গা দিন। সামনে শীতের মধ্যে আমরা কীভাবে রাত্রিযাপন করব? এই জায়গা ছাড়া আমাদের কোথাও থাকার মতো জায়গা নেই।’

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত