Ajker Patrika

প্রেম করে বিয়ের চার মাসের মাথায় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ১১
প্রেম করে বিয়ের চার মাসের মাথায় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
হাসপাতালে মর্গের সামনে নিহত তানজিনার মায়ের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি দিতে মোহাম্মদ আকাশকে বিয়ে করেছিলেন তানজিনা আক্তার (২২)। ছেলেটি বেকার থাকায় তাঁকে নিয়ে নিজের বাবার বাড়িতেই থাকতেন। অথচ মাত্র চার মাস না যেতেই সেই স্বামী হয়ে উঠলেন স্ত্রী হন্তারক। আজ সোমবার স্ত্রীর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গের সামনে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নিহত তানজিনা নগরীর খুলশী থানাধীন ঝাউতলা টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনির মো. শাহ আলমের মেয়ে। চার মাস আগে গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আকাশের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

তানজিনার ভাই মোহাম্মদ রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পরিবারের অমতেই বিয়ে করে তানজিনা। তবে পরে বোনের সুখের জন্য বিয়েটা মেনে নিই আমরা। আগে ব্যবসা করলেও বর্তমানে বেকার হওয়ায় আকাশ আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। তবে বিয়ের মাসখানেক যেতেই তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি শুরু হয়। আজ সকালেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। একপর্যায়ে আকাশ আমার মাকে ডেকে বলেন, তানজিনার কিছু একটা হয়েছে। আমার মা তখন দৌড়ে রুমে গিয়ে তানজিনাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ‘‘ওর তেমন কিছু হয়নি’’ বলে তিনি নিজেই আমার বোনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মা হাসপাতালে গিয়ে বোনকে মর্গের সামনে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় আকাশকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।’

রহিমের দাবি, ঝগড়াঝাঁটির পর আকাশ তাঁর বোনকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানোর চেষ্টা করেছেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ছিল পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরির অংশ। এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে যাওয়া খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিতোষ বিশ্বাস বিকেলে বলেন, ‘গৃহবধূ মারা যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা দাবি করছেন, মেয়েটি স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। তাঁর স্বামী পলাতক। আমরা অভিযোগের বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করছি।’

এসআই বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ওই নারীর মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। সুরতহাল রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা পাওয়া যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত