Ajker Patrika

খুলশীর ৬৩ বিদেশির সাইবার চক্রে চীনা কর্মকর্তার মাধ্যমে মহসিনের যোগাযোগ: পুলিশ

সোহেল মারমা, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১৪
খুলশীর ৬৩ বিদেশির সাইবার চক্রে চীনা কর্মকর্তার মাধ্যমে মহসিনের যোগাযোগ: পুলিশ
চট্টগ্রামের খুলশীতে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিক। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের খুলশীতে সাইবার স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ দেশের ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এক চীনা কর্মকর্তার মাধ্যমে সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিনের যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। কোকেন মামলায় গ্রেপ্তার মহসিনকে সাইবার সুরক্ষা আইনের পৃথক মামলায়ও দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত মহসিনকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

নগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

খুলশী থানার উপপরিদর্শক মো. তানভীর বলেন, এক চীনা অফিস বসের মাধ্যমে খুলশীতে গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে মহসিনের সখ্য তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ও তাইওয়ানের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বহুজাতিক প্রকৌশল ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন সন লিমিটেডের হিসাব বিভাগের ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিনের বয়স ৩৭ বছর। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মহসিনের কর্মস্থলের এক ঊর্ধ্বতন চীনা কর্মকর্তা তাঁর অফিস বস। ওই কর্মকর্তার মাধ্যমেই খুলশীতে গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের কয়েকজনের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মহসিন বিভিন্ন সময় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

খুলশীতে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে চীনা নাগরিকও রয়েছেন। মহসিন অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে ওই চীনা কর্মকর্তার নাম জানা যায়নি।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘মাদকের মামলায় পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমরা এখনো মহসিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। এখন যেহেতু আসামিকে সাইবার মামলায় দুই দিনের রিমান্ড পাওয়া গেছে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শেষে এই চক্রের সঙ্গে কোম্পানিটির অন্য কেউ আছে কি না, তা জানতে পারব। প্রয়োজনে মাদকের মামলাতেও তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া হবে। মাদকের মামলাটি কাউন্টার টেররিজমে আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

৪ সেপ্টেম্বর নগরের দক্ষিণ খুলশীর স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালিয়ে একটি ব্যাগ থেকে ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করে খুলশী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর খুলশী থানায় মামলা হয়।

কোকেন মামলার সূত্র ধরে ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের একটি ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। অভিযানে পাঁচ দেশের ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, ভিয়েতনামের একজন ও নেপালের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, মহসিন বিদেশি চক্রের সদস্যদের দেশে আনা ও তাঁদের পাসপোর্ট হেফাজতে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কোকেন মামলায় তাঁকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে পাসপোর্টগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি তাঁর কাছ থেকে।

খুলশী থানা-পুলিশ ১৭ সেপ্টেম্বর মহসিনকে কোকেন মামলায় এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রিমান্ড শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে সোপর্দ করা হয়। কোকেন চালানের বিষয়ে অপরাধ স্বীকার না করায় তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মহসিন রিমান্ডে দাবি করেন, তিনি শুধু একজন বিদেশি নাগরিকের ঢাকায় পার্সেল পাঠানোর বিষয়টি জানতেন। কোকেন সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একজনের নামও বলেছেন, যাঁর কাছ থেকে পার্সেলের বিষয়টি জেনেছিলেন। ওই ব্যক্তি খুলশীতে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের একজন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপপরিদর্শক মো. তানভীর বলেন, রিমান্ডে আসামি কোকেনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। ধরা পড়ার পর সব আসামিই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে থাকে। কাউন্টার টেররিজম ও পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে কোকেনের সঙ্গে মহসিনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খুলশীতে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে এক বা একাধিক ব্যক্তি কোকেন আনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ৫ নম্বর মান্দার ইউনিয়নে। তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ হাউজিং এলাকায় থাকতেন।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার মো. শামীম হোসেন বলেন, ডিভাইসের মাধ্যমে গুগল অনুবাদ ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে এখন পর্যন্ত লাওসের ২০ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত