দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ, কুমিল্লা

দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে কুমিল্লার পুরাতন গোমতী নদী। দখলদারদের কাছ থেকে নদীটি উদ্ধারের পর সংস্কার করে রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে নান্দনিক করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নদীপাড়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনের কেউই নিচ্ছে না দায়িত্ব। ওই তিন দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে প্রকল্পের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলেও শুরু হয়নি কাজ। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন গোমতী নদীর জায়গা দখলমুক্ত করে সৌন্দর্য প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে ২০২১ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও দখলমুক্ত না হওয়ার কারণে উন্নয়ন প্রকল্প অনেকটাই ফাইলবন্দী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় গোমতী নদীতে ছিল পানির অবাধ প্রবাহ। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে শহর তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করত। তাই শহর রক্ষার জন্য গত শতাব্দীর ষাটের দশকে এই নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর থেকে শহরের উত্তর প্রান্তের কাপ্তানবাজার থেকে পূর্ব প্রান্তের শুভপুর এলাকা পর্যন্ত নদীর প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ ‘পুরাতন গোমতী নদী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই নদীর দুই তীরের জলাধার দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবনসহ নানা স্থাপনা। বিগত সময়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসন পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
আদর্শ সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, পুরাতন গোমতী নদীর দুই পাশের ৭৭২ জন অবৈধ দখলদারের একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৩ সাল থেকে আট-নয় দফা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নদীর ২৫৮ দশমিক ০২ একর জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে জেলা প্রশাসকের কাছে তথ্য দিয়েছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এ বিষয়ে ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করলেও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হয়নি।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নগরীর বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পুরাতন গোমতী নদীকে ঢাকার হাতিরঝিলের রূপদান করা।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন চিশতী বলেন, হাতিরঝিলের আদলে পুরাতন গোমতীর সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন। কিন্তু এসব স্থাপনা কেউই উচ্ছেদ করছে না। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের নেই। এগুলো উচ্ছেদের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
পাউবো, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীজ্জামান বলেন, পুরাতন গোমতী নদীকে দখলমুক্ত করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ-সংকট রয়েছে। পুরাতন গোমতী নদীর দখলদারদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সাপেক্ষে উচ্ছেদ কার্যক্রমে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করা হবে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আবু সায়েম ভূঁইয়া বলেন, ‘পুরাতন গোমতী নদীকে হাতিরঝিলের আদলে সৌন্দর্যবর্ধনে ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু করব।’

দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে কুমিল্লার পুরাতন গোমতী নদী। দখলদারদের কাছ থেকে নদীটি উদ্ধারের পর সংস্কার করে রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে নান্দনিক করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নদীপাড়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনের কেউই নিচ্ছে না দায়িত্ব। ওই তিন দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে প্রকল্পের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলেও শুরু হয়নি কাজ। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন গোমতী নদীর জায়গা দখলমুক্ত করে সৌন্দর্য প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে ২০২১ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও দখলমুক্ত না হওয়ার কারণে উন্নয়ন প্রকল্প অনেকটাই ফাইলবন্দী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় গোমতী নদীতে ছিল পানির অবাধ প্রবাহ। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে শহর তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করত। তাই শহর রক্ষার জন্য গত শতাব্দীর ষাটের দশকে এই নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর থেকে শহরের উত্তর প্রান্তের কাপ্তানবাজার থেকে পূর্ব প্রান্তের শুভপুর এলাকা পর্যন্ত নদীর প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ ‘পুরাতন গোমতী নদী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই নদীর দুই তীরের জলাধার দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবনসহ নানা স্থাপনা। বিগত সময়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসন পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
আদর্শ সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, পুরাতন গোমতী নদীর দুই পাশের ৭৭২ জন অবৈধ দখলদারের একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৩ সাল থেকে আট-নয় দফা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নদীর ২৫৮ দশমিক ০২ একর জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে জেলা প্রশাসকের কাছে তথ্য দিয়েছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এ বিষয়ে ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করলেও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হয়নি।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নগরীর বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পুরাতন গোমতী নদীকে ঢাকার হাতিরঝিলের রূপদান করা।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন চিশতী বলেন, হাতিরঝিলের আদলে পুরাতন গোমতীর সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন। কিন্তু এসব স্থাপনা কেউই উচ্ছেদ করছে না। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের নেই। এগুলো উচ্ছেদের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
পাউবো, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীজ্জামান বলেন, পুরাতন গোমতী নদীকে দখলমুক্ত করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ-সংকট রয়েছে। পুরাতন গোমতী নদীর দখলদারদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সাপেক্ষে উচ্ছেদ কার্যক্রমে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করা হবে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আবু সায়েম ভূঁইয়া বলেন, ‘পুরাতন গোমতী নদীকে হাতিরঝিলের আদলে সৌন্দর্যবর্ধনে ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু করব।’

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে তালুকদার ও খান পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
২৬ মিনিট আগে
গণ-অভ্যুত্থানের পরও এই গ্যাস সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে নতুন গ্যাস-সংযোগ বন্ধ থাকলেও তিতাস বিদ্যমান সংযোগগুলোতেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি গ্যাস পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা দখল নিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠান কৃত্রিমভাবে গ্যাস-সংকট তৈরি করেছে।
১ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ট্রাকচাপায় তাজুল ইসলাম (৪৭) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া এলাকায় কুমিল্লা-মিরপুর সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে
সোমবার রাতে নবাবপুর মার্কেট থেকে কাজ শেষে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন ইব্রাহিম। জুরাইন বালুর মাঠ এলাকায় আসার পর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। খবর পেয়ে রাস্তা থেকে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
২ ঘণ্টা আগে