Ajker Patrika

মোটরসাইকেল থামিয়ে ইয়াবা সেবনের জন্য ৫০০ টাকা দাবি, না দেওয়ায় খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
শহীদুল ইসলাম খোকন। ছবি: সংগৃহীত
শহীদুল ইসলাম খোকন। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাইড শেয়ারিং সেবার চালক ওজিয়ার রহমান (৩৬)। হঠাৎ তাঁর গতি রোধ করে সামনে দাঁড়ান শহীদুল ইসলাম খোকন (৪৫)। তিনি ওজিয়ারের কাছে দাবি করেন—৫০০ টাকা দিতে হবে, ইয়াবা সেবন করবেন। কিন্তু তাতে অসম্মতি জানিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন চালক ওজিয়ার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন শহীদুল।

ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানার পোর্ট কলোনির সড়কে। গত শনিবার রাতের ওই ঘটনায় শহীদুলকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার নগরের পানওয়ালাপাড়া থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন।

আজ বুধবার নগরের দামপাড়া এলাকায় সিএমপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, শহীদুল ইসলামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়। তিনি নগরীতে ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পাঁচটি মামলা রয়েছে। তাঁকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বন্দর থানার পোর্ট কলোনির সড়ক থেকে ওজিয়ার রহমানকে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন। ঘটনার পর বন্দর থানা-পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সূত্র উদ্‌ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

জানা গেছে, নিহত ওজিয়ার রহমান বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার আলতি বরুজবাড়িয়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে। তিনি পরিবারসহ নগরের বন্দর এলাকায় থাকতেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, শহীদুলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি ও নিহত রাইড শেয়ারিং পাঠাওয়ের চালকের ব্যবহৃত একটি হেলমেট আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

আসামির প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন পাঠাও চালক ওজিয়ার রহমান মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় আসামি শহীদুলকে দেখে গাড়ি থামিয়ে কোথায় যাবেন বলে জিজ্ঞেস করেন। এ সময় আসামি কোথাও যাবেন না বলে তাঁকে ইয়াবা সেবনের জন্য ৫০০ টাকা দিতে বলেন। এই কথা শোনার পর ভুক্তভোগী পাঠাও চালক আসামিকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় তাঁকে কাঠের বাঁটযুক্ত স্টিলের ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করেন শহীদুল। রক্তাক্ত অবস্থায় ওজিয়ার মোটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় কিছু দূর যাওয়ার পর নতুন পোর্ট মার্কেট জামে মসজিদের বিপরীত পাশে সড়কে মোটরসাইকেলসহ পড়ে যান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত