Ajker Patrika

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার বালুমহাল ঘিরে ভাঙচুর-লুটপাট, ভেকুতে আগুন; আসামি গ্রেপ্তারে বাধার অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার বালুমহাল ঘিরে ভাঙচুর-লুটপাট, ভেকুতে আগুন; আসামি গ্রেপ্তারে বাধার অভিযোগ
বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর-লুটপাট। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে ইজারাদারপক্ষের বিরোধের জেরে বাড়িঘর ও অফিসে ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং একটি ভেকু মেশিনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখরআলী ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের আলিমনগর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া পদ্মা নদীর বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ১৯ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন বালুমহালের ইজারাদারপক্ষ।

মামলা দুটির তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ‘পিও’ নির্ধারণের জন্য গতকাল সেখানে যান সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহায়বুর রহমান। এ সময় তিনি এজাহারভুক্ত মামলার আসামি রুবেল আলীকে গ্রেপ্তার করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামি গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিভিল পোশাকে আসামি ধরতে গেলে এসআই সোহায়বুর রহমানকে ঘিরে ফেলেন তারা। একপর্যায়ে একটি মুদি দোকানের সামনে তাঁকে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

হামলার শিকার এসআই সোহায়বুর রহমান বলেন, ‘বালুমহালে ভাঙচুরের ঘটনায় গত ১৯ আগস্ট রাতে থানায় দুটি মামলা হয়। রুবেল আলী এক মামলার এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি এবং অপর মামলার তিন নম্বর আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য আমি অনেকক্ষণ ধরে অনুসরণ করছিলাম। একপর্যায়ে সে বিষয়টি টের পেয়ে যায়। নামাজ পড়ার কথা বলে দোকানের শাটার লাগানোর সময় দোকানের পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর প্রায় ৭০০ মানুষ আমাকে ঘিরে ধরে এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে দেরি করায় প্রাণে বাঁচতে বিজিবির সহযোগিতায় সেখান থেকে ফিরে আসি।’

তবে পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘বালুমহালের মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে পিও ভিজিট করার জন্য এসআই সোহায়বুর রহমান সেখানে গিয়েছিলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তবে পুলিশ সদস্যকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

পুলিশের ওই অভিযানের পর স্থানীয়দের একাংশ বালুমহালের ইজারাদার মো. আজিজুলের বাড়িঘর ও অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে রাতে বাখরআলী বিজিবি ক্যাম্পের পাশে থাকা একটি ভেকু মেশিনে আগুন দেওয়া হয়।

ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, ‘বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, অফিস ভাঙচুর ও ভেকুতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।’

ঘটনার পর থেকে চরবাগডাঙ্গা ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মালবাগডাঙ্গা ও চরবাগডাঙ্গা এলাকায় বালুমহাল ইজারা দেওয়া ও বালু উত্তোলনে নানা অনিয়ম চলছে। প্রশাসনের নির্ধারিত সীমানা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নদী রক্ষা বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী চরবাগডাঙ্গা ও আলাতুলী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতিবছর নদীভাঙন বাড়ছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে মামলা ও হামলার ঘটনাও ঘটছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত