Ajker Patrika

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিচারকের খাসকামরায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল-যুবদলের বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৫০
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিচারকের খাসকামরায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল-যুবদলের বিরুদ্ধে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিচারকের খাসকামরায় হামলা ও ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতের এজলাসকক্ষে এবং বিচারকের খাসকামরায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

আজ রোববার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে এ হামলার এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরক আইনের মামলায় যুবদল নেতা তুফান আলীকে গতকাল শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ মামলাটির শুনানি ছিল। শুনানির একপর্যায়ে মামলার পরোয়ানাভুক্ত চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে তুফান আলীর জামিনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আদালত সূত্রের ভাষ্য, ওই সময় আদালতকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে আদালতে উপস্থিত ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিচারকের কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন এজলাসের জানালা ও বিচারকের খাসকামরার দরজার কাচ ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় বিচারক তৎকালীন ও বর্তমান সরকার নিয়ে মন্তব্য করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, আদালতে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষ্য, বিচারকের বক্তব্যের সময় কয়েকজন ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের নিষেধ করা হয়। এ নিয়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বাবর আলী রুমন বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে বিজ্ঞ বিচারক সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য করায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একজন বিচারক বিচারকাজ পরিচালনার সময় এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।

তবে আদালতের ভেতরে ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কোনো নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল ওদুদ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের ভেতরে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ঘটনাটিকে বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব বলেন, আদালতের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনাটিকে ‘মব কালচার’-এর বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত