Ajker Patrika

ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ৫ মাসেও মেলেনি সন্ধান

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ৫ মাসেও মেলেনি সন্ধান
ছেলেকে ফিরে পেতে নান্দাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করছেন ইয়াসিনের বাবা দিনমজুর হারুন মিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

গত ৯ মার্চ রাতে পাশের গ্রামের তিন যুবক ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান ইয়াসিন মিয়া (১৫) নামের এক শিক্ষার্থীকে। পরে তার আর খোঁজ না পেয়ে পরদিন নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ওই শিক্ষার্থীর এখন পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি। আজ রোববার দুপুরে একমাত্র ছেলেকে ফিরে পেতে নান্দাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইয়াসিনের বাবা দিনমজুর হারুন মিয়া।

ইয়াসিন আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই কোনাঘাটা গ্রামের দিনমজুর হারুন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় সিংদই আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে হারুন মিয়া জানান, তাঁর একমাত্র ছেলে ইয়াসিনকে গত ৯ মার্চ রাতে পূর্বহরি গ্রামের জিহাদ মিয়া, ফয়সাল মিয়া ও সেলিম মিয়া ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাতে খোঁজ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পরদিন নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। হারুন মিয়ার অভিযোগ, নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবলাল সরকার নিখোঁজের মামলা নেওয়ার কথা বলে তাঁকে এক মাস অপেক্ষা করিয়েও মামলা নেননি। ছেলের সন্ধান না পেয়ে পরে হারুন মিয়া ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালতে নালিশি আবেদন করেন। আদালত ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেন। ডিবি কার্যালয়ে প্রতিবেশী সন্দেহভাজন তিন যুবককে ডেকে নিয়েও ছেড়ে দেওয়া হয়। তার পর থেকে তাঁরা পলাতক রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইয়াসিনের বাবা। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় পলাতক তিন যুবকের যোগসাজশ রয়েছে। তাঁর ছেলের সঙ্গে তাঁদের মোবাইল ফোনে হওয়া কথোপকথনের কিছু রেকর্ডও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হারুন মিয়া বলেন, গত তিন দিন আগেও পলাতক সেলিমের বাবা সওদাগর ও ফয়সালের ভাই সাজন মিয়া ইয়াসিনকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে ছয় লাখ টাকা দাবি করেছেন।

হারুন মিয়া বলেন, ‘আমার সন্তানকে ফেরত দেন, আমি আর সইতে পারছি না। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলে ছেলের সন্ধান পাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ঘুরতে ঘুরতে নিজের সবকিছু শেষ করে দিয়েছি, তবু সন্ধান মেলেনি।’

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবলাল সরকার বলেন, ‘ইয়াসিন নিখোঁজের পর থানায় জিডি হলেও ওই সময় সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) না থাকায় মামলা করতে পারিনি। তবে ইয়াসিনের সন্ধান পেতে কাজ করছি। এতে আমার কোনো দায় নেই।’

ময়মনসিংহ গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক অংকুর সরকার বলেন, ‘আদালত থেকে যে মামলা হয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ করছি। আদালত বলেছেন, ছেলে উদ্ধার করে প্রতিবেদন জমা দিতে। ৩০ আগস্ট আদালতে জবাব দেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত