Ajker Patrika

শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ, বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি 
শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ, বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১৭ নং পশ্চিম পোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ডাস্টার দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনে। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১৭ নং পশ্চিম পোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ডাস্টার দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের অভিযোগের পর তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের ১১৭ নং পশ্চিম পোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মারধরের শিকার মারিয়া আক্তার (৯) বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পশ্চিম পোয়া গ্রামের প্রবাসী সাইফুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে কর্মরত আছেন।

আজ মঙ্গলবার বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরে বিদ্যালয়টি থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়, তবে কেউই কৃতকার্য হয়নি। এরপর পড়ালেখার মান উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ থেকে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কঠোরতা বাড়ানো হয়।

গত ১১ আগস্ট বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী হাতের লেখা না এনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মারিয়া আক্তারকে ডাস্টার দিয়ে কোমরের নিচে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন।

পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে মারিয়া বিষয়টি জানালে তার মা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে শিশুটিকে চাঁদপুর জেলা সদরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে সে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক্স) ডাক্তার সাইফুল ইসলাম খানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। এক্স-রে রিপোর্ট ও চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, আঘাতের কারণে তার কোমরের নিচে শিরা ও মাংসে মারাত্মক জখম হয়েছে।

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মারিয়া আক্তার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে।

মারিয়ার মা ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমার সন্তান অন্যায় করলে শিক্ষক শাসন করতে পারেন। কিন্তু এভাবে নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করে তাকে অসুস্থ করে ফেলতে পারেন না।’

অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় কেউ পাশ করেনি। তাই একটু কড়াকড়ির মধ্যদিয়ে পাঠদান করে আসছিলাম। মারিয়া আক্তার বাড়ি থেকে হাতের লেখা আনে নাই, তাই তাকে মেরেছি। হাতে মারি নাই সে বেশি ব্যথা পাবে, এই জন্যই পিছনে কোমরের নিচে হালকাভাবে মেরেছি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজনা বেগম বলেন, ‘শিক্ষার্থীর মা আমাকে বিষয়টি ফোনের মাধ্যমে জানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মহোদয়রা এসে তদন্ত করে গিয়েছেন।’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার সাথে সাথে তদন্ত করেছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত