Ajker Patrika

চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্পে ২৭ হাজার হেক্টর জমি কমেছে

চাঁদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ১৭: ৩৭
চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্পে ২৭ হাজার হেক্টর জমি কমেছে
মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে অবৈধ স্থাপনা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্পে বোরো না করে অন্য ফসল আবাদ ও বসতি গড়ে ওঠায় ২৭ হাজার হেক্টর জমি কমেছে। আগে ১৬০ কিলোমিটার বাঁধের দুটি প্রকল্পে চাষযোগ্য জমি ছিল ৪২ হাজার হেক্টর। পাশাপাশি সেচের খালগুলোয় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সহস্রাধিক। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে—খালগুলো পুনরুদ্ধার ও বসতি উচ্ছেদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ফরিদগঞ্জ, সদর ও হাইমচর এলাকার চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এবং মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প দুটি বোরো ও রবিশস্য উৎপাদনে অন্যতম সহায়ক।

এর মধ্যে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে ১০০ কিলোমিটার বাঁধে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সাত হাজার কিলোমিটার খাল প্রবহমান ছিল। বর্তমানে সেচযোগ্য খাল রয়েছে চার হাজার কিলোমিটার। বাকি খাল ভরাট ও অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।

অপর দিকে মতলব উত্তরে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ১৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪৭টি খাল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিষ্কাশন খালগুলোর মধ্যে গড়ে উঠেছে বাজারকেন্দ্রিক সাত শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার শিকার হন কৃষকেরা।

মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ফতেপুর ইউনিয়নের কৃষক মোখলেছুর রহমান বলেন, এই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সরকারি খাল দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ খালের মধ্যে মাছ চাষ করে বাঁধ দিয়েছে। এসব কারণে পানি আটকে থাকে এবং কৃষকদের সর্বনাশ হয়।

একই এলাকার কৃষক মো. শওকত বলেন, ‘আমাদের এলাকার খালগুলো খনন করা দরকার। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে পানি আটকে থাকে। খাল ও নদীতে কচুরিপানা। এগুলোও পরিষ্কার করা হয় না। খালের অর্ধেক দখল করে বাড়িঘর তৈরি করে রেখেছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে কৃষকেরা আরও ভোগান্তির মধ্যে পড়বেন।’

চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের চান্দ্রা বাজার এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, বাজারসংলগ্ন এই খাল ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে খনন করা হয়েছে। এখন আর খালে নৌকাও চলে না এবং পানিপ্রবাহ নেই। এটি খনন করা প্রয়োজন।

পাশের মদনের গাঁও গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, অধিকাংশ খাল দখল করে লোকজন স্থাপনা তৈরি করেছে। আশির দশকে খাল খনন হয়েছে। এরপর আর রক্ষণাবেক্ষণ নেই। এখন আবার এসব খাল পুনঃসংস্কার প্রয়োজন।

একই গ্রামের কৃষক হাসান গাজী বলেন, ‘বহু বছর খাল খনন হয় না। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। ধানসহ অনেক ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারকে কৃষকদের সব বিষয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কারণ, আমরা পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করি।

‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেই। খালগুলো খনন না হওয়ার কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে। কৃষকদের সুবিধার্থে এসব খাল খনন খুবই জরুরি।’

এ বিষয়ে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহরুল ইসলাম বলেন, খালগুলো সচল করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য তালিকা জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অবৈধ স্থাপনাগুলো আর থাকবে না।

মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম সাহেদ বলেন, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার প্রকল্প এলাকায় ১৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়মিত কাজের অংশ। উচ্ছেদের কাজও শুরু হবে খুব শিগগির।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত