ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বন্ধ মাদ্রাসার নামে ভুয়া রসিদ তৈরি করে দেশব্যাপী টাকা সংগ্রহ করছে একটি চক্র। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোর ও অসহায় বয়স্কদের। চাঞ্চল্যকর এমন অভিযোগ উপজেলার পশ্চিম পোঁয়া গ্রামের কাটাখালী দারুল উলুম ক্বেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা ও পীর মতিনিয়া এতিমখানা নামক প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রসিদে ছাপানো নামের মাদ্রাসাটিতে নেই কোনো শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কার্যক্রম। আছে পরিত্যক্ত মাঠ, শৌচাগার ও একটি অব্যবহৃত একতলা দালান। সামনে সড়কের পাশে ঝুলছে একটি সাইনবোর্ড, এই সাইনবোর্ডের নাম দিয়েই রসিদ বানিয়ে, শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের ভাড়া করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেকশনের নামে প্রতারণা করছে ওই চক্র।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, চক্রটি টুপি, পাঞ্জাবি ও টাকা আদায়ের রসিদ হাতে ধরিয়ে দেয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের। এতিমদের খাওয়ানো, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের খরচ মেটাতে ধর্মীয় কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই চাঁদা আদায় করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মাওলানা তাজাম্মুল হোসাইনের ছেলে কে এম নুরে আলম সিদ্দিকী ও হাফেজ কে এম মোবারক হোসাইনের বিরুদ্ধে এই চাঁদাবাজির অভিযোগ। এমন অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী এক কিশোরের মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের প্রয়াত মাওলানা তাজাম্মুল হোসাইন তাঁর বাবার নামে ১৯৯১ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাদ্রাসাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন নম্বর পায়।
প্রতি বছর মাদ্রাসাটিতে সরকারিভাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হতো। প্রথমে কয়েক দিন মাদ্রাসাটিতে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু হওয়ায় সব শিক্ষার্থী চলে যায়। সেই থেকে মাদ্রাসার শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কয়েক বছর আগে সরকারের তহবিল থেকে মাদ্রাসাটিতে অনুদানও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের দেওয়া অনুদান বন্ধ হলেও ধর্মভীরু মানুষের সরলতা কাজে লাগিয়ে ওই মাদ্রাসার নামে রসিদ ছাপিয়ে সারা দেশে দান-অনুদানের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। রসিদ দিয়ে কমিশনে টাকা সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন মো. রায়হান নামে এক কিশোর।
মো. মিজান, নুরুল ইসলাম খোকনসহ আরও অনেকেই বলেন, কোনো কার্যক্রম না চললেও সারা দেশে রসিদ দিয়ে মাদ্রাসার নামে টাকা আদায় বন্ধ নেই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই ভণ্ড ও প্রতারকদের কারণে ইসলামের বদনাম হবে।
থানায় অভিযোগকারী শাহীদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেসহ বাকিদের পাঞ্জাবি, টুপি পরিয়ে রসিদ বই দিয়ে টাকা ওঠানোর জন্য পাঠায় মাদ্রাসার হুজুররা। এখান থেকে একটি অংশ যারা টাকা উঠায় তাদের দেওয়া হয়, বাকি টাকা নুরে আলম ও মোবারকের পরিবার নিয়ে যায়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে কে এম নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘টাকা ওঠানোর বিষয়ে আমি জানি না। তবে আমরা এখন আর এই মাদ্রাসা চালাই না।’

অন্যদিকে হাফেজ কে এম মোবারক হোসাইন বলেন, ‘মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ আছে, তবে প্রতিবছর মাহফিল হয়।’ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে মাদ্রাসার নামে টাকা কালেকশন ও বাৎসরিক মাহফিল করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, ‘ওই মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মাদ্রাসাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি অনুদান, সাধারণত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের আওতাধীন ছিল। আমরা কয়েকবার পরিদর্শনে গিয়ে দেখি মাদ্রাসাটিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। পরবর্তী সময়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাৎসরিক অর্থ স্থগিত করা হয়। এখন তারা আমাদের রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। আমি খোঁজখবর নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বন্ধ মাদ্রাসার নামে ভুয়া রসিদ তৈরি করে দেশব্যাপী টাকা সংগ্রহ করছে একটি চক্র। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোর ও অসহায় বয়স্কদের। চাঞ্চল্যকর এমন অভিযোগ উপজেলার পশ্চিম পোঁয়া গ্রামের কাটাখালী দারুল উলুম ক্বেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা ও পীর মতিনিয়া এতিমখানা নামক প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রসিদে ছাপানো নামের মাদ্রাসাটিতে নেই কোনো শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কার্যক্রম। আছে পরিত্যক্ত মাঠ, শৌচাগার ও একটি অব্যবহৃত একতলা দালান। সামনে সড়কের পাশে ঝুলছে একটি সাইনবোর্ড, এই সাইনবোর্ডের নাম দিয়েই রসিদ বানিয়ে, শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের ভাড়া করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেকশনের নামে প্রতারণা করছে ওই চক্র।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, চক্রটি টুপি, পাঞ্জাবি ও টাকা আদায়ের রসিদ হাতে ধরিয়ে দেয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের। এতিমদের খাওয়ানো, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের খরচ মেটাতে ধর্মীয় কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই চাঁদা আদায় করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মাওলানা তাজাম্মুল হোসাইনের ছেলে কে এম নুরে আলম সিদ্দিকী ও হাফেজ কে এম মোবারক হোসাইনের বিরুদ্ধে এই চাঁদাবাজির অভিযোগ। এমন অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী এক কিশোরের মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের প্রয়াত মাওলানা তাজাম্মুল হোসাইন তাঁর বাবার নামে ১৯৯১ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাদ্রাসাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন নম্বর পায়।
প্রতি বছর মাদ্রাসাটিতে সরকারিভাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হতো। প্রথমে কয়েক দিন মাদ্রাসাটিতে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু হওয়ায় সব শিক্ষার্থী চলে যায়। সেই থেকে মাদ্রাসার শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কয়েক বছর আগে সরকারের তহবিল থেকে মাদ্রাসাটিতে অনুদানও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের দেওয়া অনুদান বন্ধ হলেও ধর্মভীরু মানুষের সরলতা কাজে লাগিয়ে ওই মাদ্রাসার নামে রসিদ ছাপিয়ে সারা দেশে দান-অনুদানের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। রসিদ দিয়ে কমিশনে টাকা সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন মো. রায়হান নামে এক কিশোর।
মো. মিজান, নুরুল ইসলাম খোকনসহ আরও অনেকেই বলেন, কোনো কার্যক্রম না চললেও সারা দেশে রসিদ দিয়ে মাদ্রাসার নামে টাকা আদায় বন্ধ নেই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই ভণ্ড ও প্রতারকদের কারণে ইসলামের বদনাম হবে।
থানায় অভিযোগকারী শাহীদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেসহ বাকিদের পাঞ্জাবি, টুপি পরিয়ে রসিদ বই দিয়ে টাকা ওঠানোর জন্য পাঠায় মাদ্রাসার হুজুররা। এখান থেকে একটি অংশ যারা টাকা উঠায় তাদের দেওয়া হয়, বাকি টাকা নুরে আলম ও মোবারকের পরিবার নিয়ে যায়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে কে এম নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘টাকা ওঠানোর বিষয়ে আমি জানি না। তবে আমরা এখন আর এই মাদ্রাসা চালাই না।’

অন্যদিকে হাফেজ কে এম মোবারক হোসাইন বলেন, ‘মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ আছে, তবে প্রতিবছর মাহফিল হয়।’ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে মাদ্রাসার নামে টাকা কালেকশন ও বাৎসরিক মাহফিল করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, ‘ওই মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মাদ্রাসাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি অনুদান, সাধারণত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের আওতাধীন ছিল। আমরা কয়েকবার পরিদর্শনে গিয়ে দেখি মাদ্রাসাটিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। পরবর্তী সময়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাৎসরিক অর্থ স্থগিত করা হয়। এখন তারা আমাদের রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। আমি খোঁজখবর নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

কুমিল্লার মুরাদনগরে র্যাবের বিশেষ অভিযানে পুলিশের লুট হওয়া একটি চায়নিজ রাইফেল ও একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
৯ মিনিট আগে
প্রতীক বরাদ্দের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটের প্রচার করায় রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এবি পার্টির প্রার্থী মু. সাঈদ নোমানকে আদালতে তলব করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাঁকে সশরীর আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
‘আমি যদি ভোট পাওয়ার মতো কাজ করে থাকি, তাহলে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও আমাকে ভোট দেবেন। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের শতভাগ ভোট পাব।’ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় স্মরণসভা ও দোয়ার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডাকসুর...
১ ঘণ্টা আগে
রিয়াজ মোল্লা জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন একটি প্রয়োজনীয় কাগজ সময়মতো জমা না দেওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এই কারণে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে