Ajker Patrika

৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে স্থবির আখাউড়া, চরম ভোগান্তি

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  
৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে স্থবির আখাউড়া, চরম ভোগান্তি
কসবা উপজেলার তিন লাখ পীর এলাকায় একটি মোবাইল ফোন টাওয়ার দুমড়েমুচড়ে ভেঙে পড়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও অচল হয়ে পড়েছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে কসবা উপজেলার তিন লাখ পীর এলাকায় একটি মোবাইল ফোন টাওয়ার দুমড়েমুচড়ে ভেঙে পড়েছে। ফলে ওই এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে আকস্মিক কালবৈশাখীতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং একাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঝড় থেমে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল টাওয়ারগুলোর ব্যাটারি ব্যাকআপ শেষ হয়ে নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে ফোনে কল করা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

আবদুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, মোবাইল নেটওয়ার্কও কাজ করছে না। জরুরি প্রয়োজনে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আমরা একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি।’

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরাও পড়েছে বিপাকে। পরীক্ষা ও অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। শিক্ষার্থী জান্নাত বলে, ‘রাতে পড়াশোনা করতে পারিনি। মোবাইল চার্জ নেই, ইন্টারনেটও নেই—খুব সমস্যায় আছি।’

এদিকে বুধবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় দিনমজুরেরা কাজে বের হতে পারছেন না। শ্রমিক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ নেই, আজ আবার বৃষ্টি। কাজে যেতে না পারলে পরিবার নিয়ে কষ্টে থাকতে হয়।’

কালবৈশাখীতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
কালবৈশাখীতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান নুয়ে পড়ে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম জানান, ঝড়ে প্রায় ১০০ হেক্টর ধানখেত এবং ১০ হেক্টর অন্যান্য ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

মনিয়ন্দ এলাকার কৃষক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘ধান কাটার উপযুক্ত সময়। ঝড়ে ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, অনেক জমিতে পানি জমে গেছে—বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

শিবনগর এলাকার কৃষক জালাল মিয়া বলেন, পাকা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এখন যদি রোদ না ওঠে, তাহলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎচালিত পাম্প বন্ধ থাকায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবা ও মোবাইল চার্জিং সমস্যার কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।

আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জহির আব্বাস খান বলেন, ‘কালবৈশাখীর কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি খুঁটি উপড়ে গেছে এবং একাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ ভাতা পেতে যাচ্ছেন ব্যাংকাররা

নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী টিটন

নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত

আমিরাতের ‘ওপেক’ ত্যাগ একটি বড় ঘটনা: বিবিসি

একতরফা বিজয় ঘোষণার পরিকল্পনা ট্রাম্পের, সম্ভাব্য ইরানি প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত