Ajker Patrika

যমুনার ভাঙনের মুখে বাঁধ-ফসলি জমি

  • বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডুবে যাওয়ায় ভাঙন।
  • ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের আট গ্রাম নদীগর্ভে।
  • ভাঙনরোধে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ কর্তৃপক্ষের।
মাসুদ রানা, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
যমুনার ভাঙনের মুখে বাঁধ-ফসলি জমি
যমুনার তীররক্ষা বাঁধের ভাঙন স্থানে বালুর বস্তা ফেলছেন বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন। গত শনিবার শহড়াবাড়ি গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর বানিয়াজান ও শহড়াবাড়ি স্পার মাঝখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই ভাঙন চোখে পড়েছে। এতে যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, বন্যা নিয়ন্ত্রক বাঁধ, জনবসতি এলাকা ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার হুমকিতে পড়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, নদীর চর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং শুষ্ক মৌসুমে চরে রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডুবে যাওয়ায় বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যমুনা নদী। ইতিমধ্যে এই ইউনিয়নের বৈশাখী, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউসারিয়াকান্দি, আটারচর পুকুরিয়া, ভুতবাড়ি, কৈয়াগাড়িসহ প্রায় আটটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। যমুনার জেগে ওঠা চরে ফসল ফলিয়ে এবং নদীর মাছ ধরে বিক্রি সংসার চালান তাঁরা।

২০০৩ সালে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মাঝখানে নদীতীরবর্তী এলাকায় আড়াআড়ি প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি স্পার নির্মাণ করা হয়েছে। যমুনা নদীর ভাঙন রোধে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভেতরে ২০০৭ সালে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে শহড়াবাড়ি গ্রামে দেখা যায়, ভাঙন স্থানে বালুর বস্তা ফেলছে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন। বাঁধের ওপর রয়েছে মানুষের বাড়িঘর। ভাঙনকবলিত লোকজন জানায়, গত দুই দিনের নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর চর কেটে অবৈধভাবে বালু তুলেছে। এখন বর্ষায় পানি বেড়ে ভাঙন ভয়ংকর আকার নিয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আছাদুজ্জামান বলেন, গতকাল ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ঠিকাদারকে বালুর বস্তা ফেলে দ্রুত ভাঙনরোধে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন মেরামতের কাজ শেষ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত