Ajker Patrika

ধুনটে দা-বঁটি বানাতে ব্যস্ত কামার

মাসুদ রানা, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ২০: ১৩
ধুনটে দা-বঁটি বানাতে ব্যস্ত কামার
দোকানে কাজ করছেন বাঁধন ও নীলমণি কর্মকার। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাত দিয়ে হাপর টানছেন বাঁধন কর্মকার। আর সেই হাপর থেকে হাওয়া বের হয়ে জ্বলছে কয়লার আগুন। সেই আগুনে তাঁর চাচা নীলমণি কর্মকার লোহা পুড়ে পিটিয়ে বানাচ্ছেন ধারালো দা, ছুরি, বটি, কাস্তে, কুড়াল। এমন দৃশ্য নজরে পড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে।

বাঁধন ও নীলমণি কর্মকার জানান, সারা বছর ধরেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দা, বটি তৈরি করেন তাঁরা। ঈদুল আজহার সময় এলে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এ সময় কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস কাটার জন্য দা, বটি, ছুরিসহ বিভিন্ন ধারালো সামগ্রী বানান তাঁরা।

ধুনট ইউনিয়নের পেচিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বাঁধন। তিনি বলেন, এ বছর দা, কুড়ার বটি বেশি তৈরি করেছি। প্রায় এক মাস ধরে দিনরাত কাজ করছি। লোহার দাম একটু বেশি। তাই জিনিসপত্র তৈরির খরচটা বেড়ে গেছে। তবুও মানুষের কাছে এসব জিনিসের চাহিদা আগের মতই আছে।

নীলমণি কর্মকার বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার পর ভাতিজা একা হয়ে যায়। তাই আমি অন্য জায়গায় ব্যবসা ছেড়ে এসে ভাতিজার সঙ্গে এখানে কাজে যোগ দিয়েছি। এখন দুই চাচা-ভাতিজা মিলে ব্যবসা করছি।

এলাঙ্গী ইউনিয়নের বাসিন্দা ফকিরপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দীন বলেন, বাঁধনের কাছ থেকে পশু জবাই করার দুটি ছুরি এবং দা ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছি।

ধুনট সদর উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের শহর থেকে দামি লোহার পণ্যসামগ্রী কেনার সামর্থ্য নেই। তাই তারা অল্প টাকায় নিজেদের এলাকায় কামারের দোকান থেকে দা, বটি কিনে থাকেন।

ধুনটে কোরবানির পশুর ব্যাপারে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা রেহেনা খাতুন বলেন, উপজেলায় ৬৩ হাজার ৪৬০টি গবাদিপশু প্রস্তুত আছে। স্থানীয়ভাবে কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৪০ হাজার ৬৯টি পশুর। এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২২ হাজার ৭৬৮টি কোরবানি পশু বিক্রি করা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত