
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোয় শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা জমে উঠেছে। দিনভর ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে হাটগুলোয় ভিড় ও বেচাকেনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে শেষ সময়ে এসে অবিক্রীত পশু নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতা ও খামারিরা। লোকসান এড়াতে অনেকেই কম দামে পশু ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজধানীর আফতাবনগর, শাহজাহানপুর ও হাজীপাড়া ইকরা মাদ্রাসা হাটসহ বেশ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। পছন্দের পশুটি কিনে ট্রাক, পিকআপ কিংবা ভ্যানে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন ক্রেতারা।
হাটগুলোয় বিপুল পশুর সরবরাহ থাকলেও শেষ সময়ে এসে বিক্রেতাদের একাংশ বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। শত শত পশু এখনো অবিক্রীত অবস্থায় রয়ে গেছে। ব্যাপারীদের আশঙ্কা, ঈদের আগে এগুলো বিক্রি করতে না পারলে বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে হবে, কারণ, পশুগুলো আবার ফেরত নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
টাঙ্গাইল থেকে আফতাবনগর হাটে ১৪টি গরু নিয়ে এসেছিলেন ব্যাপারী শাকিল মিয়া। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনি ১০টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। অন্য চারটি গরু নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
হতাশা প্রকাশ করে শাকিল মিয়া বলেন, ‘যে গরুর দাম আমি এক লাখ টাকা চাচ্ছি, ক্রেতারা সেটির দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বেশি বলতে চাচ্ছেন না। কিন্তু এই শেষ সময়ে এসে তো আর গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব না। তাই লোকসান হলেও বিক্রি করে দিতে হবে।’
একই ধরনের সংকটের কথা জানান সিরাজগঞ্জ থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী আবুল মিয়া। তিনি ১৭টি ছোট আকারের গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন, যার মধ্যে ১৬টি বিক্রি হয়ে গেছে। কিন্তু শেষ গরুটির কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তিনি।
আবুল মিয়া বলেন, ‘এই শেষ গরুটির জন্য আমি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাচ্ছি, কিন্তু ক্রেতারা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাম তুলছেন। পশু পালন, গোখাদ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে বাজারে দাম ধরে রাখা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বাজারের এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতাই শেষ মুহূর্তের সুযোগ নিতে চাচ্ছেন। তাঁরা আশা করছেন, ঈদের ঠিক আগের রাতে বিক্রেতারা নিরুপায় হয়ে পশুর দাম আরও কমিয়ে দেবেন।
অনেকে আবার বাড়িতে বা ফ্ল্যাটে পশু রাখার জায়গার সংকটের কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। রামপুরার বাসিন্দা মাকসুদ হোসেন হেলাল তেমনই একজন ক্রেতা।
মাকসুদ হোসেন বলেন, ‘শহরাঞ্চলে আমাদের মতো ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দাদের গরু রাখার জায়গা কম। তাই আমরা প্রতিবছরই একদম শেষ সময়ে এসে কোরবানির পশু কিনি। এবারও আশা ছিল শেষ রাতে দাম কিছুটা কমবে। এখন হাটে ঘুরে দেখছি বিক্রেতারা আগের চেয়ে কিছুটা নমনীয় হচ্ছেন এবং দাম কিছুটা কমতির দিকে।’
পশুর হাটে শেষ মুহূর্তের এই দর-কষাকষি প্রতিবছরই দেখা যায়। তবে গোখাদ্য ও পরিবহনের উচ্চমূল্যের কারণে এবার বিক্রেতাদের লোকসানের ঝুঁকি অন্যবারের তুলনায় বেশি। রাতের বাকি সময়ে এই বিক্রি পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বহু খামারি ও ব্যাপারীর ভাগ্য।

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে এই অবস্থায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা, ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকে।
২ ঘণ্টা আগে
সেই আগুনে তাঁর চাচা নীলমণি কর্মকার লোহা পুড়ে পিটিয়ে বানাচ্ছেন ধারালো দা, ছুরি, বটি, কাস্তে, কুড়াল। এমন দৃশ্য নজরে পড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে।
২ ঘণ্টা আগে
ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা সংলগ্ন রাস্তায় কোনো পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন, দুদিন আগে আকস্মিক ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে তাঁদের পশু নিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে