আইসিইউ-সিসিইউ চালুর দাবিতে হাসপাতালে যুবকের অবস্থান

ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) চালুর দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এক যুবক। প্রায় ২০ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালটির নতুন বহুতল ভবনের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান করেন সদর উপজেলার বাসিন্দা নয়ন খান। তাঁর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আরও কয়েকজন যুবক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নয়ন খানের দাবি, গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালটিতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা, আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা না থাকায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুলে ধরেন তিনি।
নয়ন জানান, তাঁর পরিবারের মতো পরিস্থিতি যেন অন্য কোনো রোগীর স্বজনদের মোকাবিলা করতে না হয়, সে জন্যই তাঁর এই অবস্থান কর্মসূচি। হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও সিসিইউ চালু না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নয়ন খান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০২১ সালের ২৯ জুলাই ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ছয় শয্যার আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স ও প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবলের অভাবে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ভোলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা থাকলেও জনবল সংকটে তা চালু হচ্ছে না। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে ৬০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও গড়ে ২০ জনেরও কম চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। কখনো কখনো এ সংখ্যা ১০ জনে নেমে আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান বলেন, ছয় শয্যার আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে এটি চালু করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।








