Ajker Patrika

‘টাকা না দিলে বোটে আগুন জ্বালিয়ে দেব’ মৎস্য কর্মকর্তা ও যুবদল নেতার অডিও ভাইরাল

ভোলা প্রতিনিধি ও মনপুরা প্রতিনিধি
‘টাকা না দিলে বোটে আগুন জ্বালিয়ে দেব’ মৎস্য কর্মকর্তা ও যুবদল নেতার অডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

ভোলার মনপুরা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রহিম হাফেজের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রেকর্ডে রহিম হাফেজের কাছে বকেয়া টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে বোটে আগুন দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তবে কাজল রেখা অভিযোগ অস্বীকার করে ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার দাবি করেছেন। রহিম হাফেজও কথোপকথনটি অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছে যুবদল ও জেলা মৎস্য দপ্তর।

আজ বুধবার সকালে ফেসবুকে কল রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। রেকর্ডে সরকারের ঘোষিত মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের প্রসঙ্গ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ভাইরাল রেকর্ডে কাজল রেখাকে বলতে শোনা যায়, ‘রহিম ভাই, শোনেন, একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাই দিমু।’

জবাবে অপর প্রান্ত থেকে রহিম হাফেজকে বলতে শোনা যায়, ‘যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন।’

রেকর্ডে পরে কাজল রেখাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে তো চা খাওয়ার জন্যেও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম।’

কথোপকথনের অডিও রেকর্ডটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অর্থের বিনিময়ে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অঘোষিত অনুমোদন নিয়ে দুই শতাধিকের বেশি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। জেলে ও ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলে জানান, গত কয়েক দিন বিভিন্ন ঘাট থেকে ট্রলারগুলো বরফবোঝাই করে রাতের আঁধারে সাগরে মাছ শিকারে গেছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে ট্রলারগুলো মা ইলিশ নিয়ে ফিরে আসবে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজল রেখা আজকের পত্রিকাকে প্রথমে ঘটনাটি বানোয়াট বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক ঝামেলা আছে। আমি একটি রাজনৈতিক দল ও অফিসের একটি অসাধু মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।’

কথোপকথনের বক্তব্য অনেক আগের দাবি করে কাজল রেখা বলেন, ‘কালকে আমরা একটা বড় ফিশিং বোট আটক করেছি। স্থানীয় এক সাংবাদিকও আমাদের সেই ফিশিং বোটে ওঠেন। তখন ওই সাংবাদিক আমাদেরকে বলেন, জাল পুড়তে হবে। মাছ নাইলে তুলতে পারবেন না।’

সাংবাদিকের সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডার পর ওই সাংবাদিক পুরোনো রেকর্ড দেখিয়ে তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন কাজল রেখা। তাঁর ধারণা, ওই সাংবাদিকই অডিও রেকর্ডটি ছড়িয়ে দিতে পারেন। দপ্তর থেকে দালাল হিসেবে পরিচিত একটি চক্রকে বের করে দেওয়ায় তাঁরাই তাঁকে নিয়ে ‘এই প্যাঁচটা খেলাইয়া দিছে’ বলেও দাবি করেন তিনি।

রহিম হাফেজের মুঠোফোনে বুধবার দুপুর ২টা ১৯ মিনিটে ফোন করা হলে আরিফ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, তিনি একজন দোকানদার এবং রহিম হাফেজ মুঠোফোনটি দোকানে চার্জে দিয়ে অন্যত্র গেছেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রহিম হাফেজ বলেন, ‘এই জাতীয় কোনো বক্তব্য আমি দেইও নাই। আর এই জাতীয় কোনো কথাও বলি নাই।’ তিনি বলেন, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অনেক কিছু করা যায়। এ রেকর্ডও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সামছুদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি কল রেকর্ডটি শুনেছি। বিষয়টি আমরা দেখছি, তদন্ত করছি। এরপর আমরা আরও দেখে ব্যবস্থা নেব।’

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রেকর্ডটি আমরা শুনেছি। বিষয়টি আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখব। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পরবর্তীতে অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার মধ্যে যাব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত