Ajker Patrika

দুই ভাইয়ের চালচলনে গ্রামবাসীর সন্দেহ, মাটি খুঁড়ে মিলল কোটি-কোটি টাকা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১১
দুই ভাইয়ের চালচলনে গ্রামবাসীর সন্দেহ, মাটি খুঁড়ে মিলল কোটি-কোটি টাকা
ছবি: এনডিটিভি

ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে দুই ভাইয়ের বাড়ির মেঝের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা তিনটি ড্রাম থেকে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৫০০ রুপির নোটে ভর্তি ড্রাম তিনটি উদ্ধারের পর অর্থের উৎস অনুসন্ধানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় পরিবারের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, প্রয়াগরাজের গঙ্গানগর জোনের অন্তর্গত রামনগর গ্রামের বারাইপুর এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার নবাবগঞ্জ ও সোরাঁও থানার পুলিশের একটি যৌথ দল বাড়িটিতে প্রবেশ করে। এতে নেতৃত্ব দেন সোরাঁও ও ফুলপুর এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনারেরা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক রাকেশ ও রাজেশ যাদব নামের দুই ভাই। তাঁরা আগে ভারতের পুনেতে চাকরি করতেন। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় হঠাৎ চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন তাঁরা। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা দুই ভাই অল্প সময়ের মধ্যে গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক জমি কিনতে শুরু করেন। একটি ট্রাক্টরও কেনেন তাঁরা। পাশাপাশি তাঁদের বিলাসী জীবনযাপন নজরে আসে গ্রামবাসীর। স্বল্প বেতনের চাকরি করা দুই ভাই কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। তবে তাঁদের সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

সম্প্রতি দুই ভাইয়ের সঙ্গে গ্রামবাসীর বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁদের কাছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বাড়িটিতে অভিযান চালায়। প্রথমে তল্লাশি করে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একটি কক্ষের মেঝে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে সম্প্রতি মাটি খোঁড়া হয়েছে বলে সন্দেহ হয় পুলিশের।

এরপর শ্রমিক এনে খনন শুরু করলে মাটির নিচে তিনটি ড্রাম পাওয়া যায়। ড্রামগুলো কালো মোটা প্লাস্টিক দিয়ে কয়েক স্তরে মোড়ানো ছিল। সেগুলো খুলে ভেতরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল পাওয়া যায়। উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি রুপি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

গঙ্গানগর জোনের উপপুলিশ কমিশনার সোনম কুমার জানান, বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক অঙ্ক নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

পুলিশ বাড়িটি সিলগালা করেছে। অর্থের উৎস অনুসন্ধানে আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা পৌঁছানোর পর নগদ অর্থ গণনা শুরু হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বারবার বক্তব্য পরিবর্তন করছেন এবং প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত