Ajker Patrika

ভোলার চরফ্যাশন: জালিয়াতি করে গভর্নিং বডি

  • মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পিবিআইয়ের।
  • অধ্যক্ষসহ তিনজনের জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
আরিফ হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা)
ভোলার চরফ্যাশন: জালিয়াতি করে গভর্নিং বডি
বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের এডহক কমিটির স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির মাধ্যমে গভর্নিং বডি গঠনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশের তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই)। তদন্ত প্রতিবেদনে কলেজের অধ্যক্ষসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ তদন্ত শেষে পিবিআই ভোলার পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরিত প্রায় ১২০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মাকসুদুর রহমান বাদী হয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান বিবাদী করে আদালতে মামলা করেন।

প্রতিবেদনে কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং মো. পারভেজ হোসেন ও মোহাম্মদ রেজাউল করিম খন্দকার নামের দুজনের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির মাধ্যমে গভর্নিং বডির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটির পাঁচ সদস্যের একটি এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়। ছয় মাস মেয়াদের কমিটিকে এই সময়ের নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মো. মাহাদি হাসান জুয়েলকে সভাপতি এবং মো. আলমগীরকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করে এডহক কমিটি অনুমোদন দেয়। পরে ৩০ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো একটি তালিকায় পারভেজ হোসেনকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ রেজাউল করিম খন্দকারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে দেখানো হয়।

এডহক কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের এডহক কমিটি দিয়েছিল এবং ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু দুই মাসের মাথায় আমাদের স্বাক্ষর জাল করে একটি তালিকা পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে ৩ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাহাদি হাসান জুয়েলকে সভাপতি ও আমাকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য রেখে বাকি সদস্যদের অপরিবর্তিত রেখে গভর্নিং বডি অনুমোদন দেয়। বর্তমানে আমাদের কমিটি বহাল।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দেখা করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর দিকে মো. পারভেজ হোসেন বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টে রিট করার পর সংশ্লিষ্ট কমিটির ওপর স্থিতাবস্থা (স্টে) দেওয়া হয়। পরে আমাদের প্রতিপক্ষরা বিষয়টি নিয়ে চেম্বার জজ আদালতে যায় এবং সেখানে ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাবস্থা দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। পরে হাইকোর্টের আরেকটি আদেশ অনুযায়ী আমাদের অবস্থান বহাল রয়েছে।’

মোহাম্মদ রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, ‘আমার কমিটির সভাপতি পারভেজ সাহেব। তিনি যে ব্যখ্যা দিয়েছে, সেটাই সঠিক।’

ভোলার পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, তদন্তে তিনজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত