Ajker Patrika

গাজীপুরের শ্রীপুর: গর্ত-পানিতে ভরা পাকা সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রীরা

রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর (গাজীপুর)  
গাজীপুরের শ্রীপুর: গর্ত-পানিতে ভরা পাকা সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রীরা
সড়কে বড় বড় গর্তের মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত সড়কের চার কিলোমিটার অংশে দুই বছর ধরে খানাখন্দ। পিচ ঢালাই এবং খোয়া উঠে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে এই পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার গাজীপুর ও মাওনা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও পাশের টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এবং ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কাচিনা গ্রামের হাজার হাজার মানুষের স্বল্প সময়ে মাওনা চৌরাস্তা আসার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়ক।

বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ কাদায় পরিণত হয়। বড় বড় খানাখন্দে জমে থাকা কাদা পানির নিচে গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় দিনই অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কারখানার কর্মজীবী মানুষ।

সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করা আনন্দবাজারের বাসিন্দা রতন মিয়া বলেন, ‘জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নানান পেশার মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। তাই আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরুর করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।’

চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘সড়কটি হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। অনেক মানুষ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কারখানায় কাজ করতে যান। অনেকে সড়কটিতে অটোরিকশা, রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় ব্যবসায়ীদের। ফলে প্রতিনিয়ত তাদের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।’

অটোরিকশাচালক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সড়কের কয়েকটি অংশের অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রায় সময় গাড়ি উল্টে যায়। সপ্তাহে অন্তত দুবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়।’

কলেজ শিক্ষার্থী মাহির বলেন, ‘প্রায়ই সড়কে অটোরিকশা উল্টে যায়। তখন জামাকাপড়ে ময়লা ও কাদাযুক্ত পানি লেগে নষ্ট হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে কয়েকটি ভাঙা অংশে ইট ফেলে দায়সারা মেরামত করা হলেও কোনো কাজে আসেনি।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত