
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবৈধ সেচপাম্পের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক হারে নিচে নেমে গেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচটি এলাকার প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার মানুষ সুপেয় পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাষাবাদের জন্য গভীর নলকূপ দিয়ে অবৈধভাবে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে হস্তচালিত প্রায় দেড় হাজার নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার জিন্নাগড়, মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভায় বেসরকারিভাবে ১০০ সাবমারসিবল সেচপাম্প রয়েছে। এসব পাম্প থেকে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৮ লাখ ৬ হাজার ৪০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়।
সুপেয় পানির সংকটে পড়া এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কৃষিকাজ, মাছের ঘের এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনেকেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহার করছেন। এসব পাম্প ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে হস্তচালিত পাম্পগুলোতে মিলছে না পানি।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েক মাস থেকে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে দূরদূরান্ত থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাজার এলাকাতেও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে কৃষকেরা বোরো আবাদের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করছেন। এ ছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শক্তিশালী সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আশপাশের অগভীর নলকূপগুলোতে পানি উঠছে না।
চর মাদ্রাজ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমাদের বাড়ির টিউবওয়েলে সারা বছর পানি থাকত। এখন এক ফোঁটাও উঠছে না। পাশের বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর পর থেকেই এই সমস্যা হচ্ছে।’
জিন্নাগড় এলাকায় বসবাসকারী গৃহিণী নাসিমা বেগম বলেন, ‘বিলের মধ্যে অবৈধভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি উত্তোলনের ফলে আমাদের নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ভোরে দূরের একটি নলকূপ থেকে পানি আনতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় পুকুরের পানি পান করতে হচ্ছে।’
গভীর নলকূপ স্থাপনকারী জিন্নাগড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক কেরানী বলেন, ‘খাল শুকিয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করতে বাধ্য হচ্ছি। বোরোর আবাদ বাঁচাতে সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহার করছি।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্যমতে, একই এলাকায় একাধিক গভীর নলকূপ ও শক্তিশালী সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহারের কারণে সম্প্রতি প্রায় দেড় হাজার অগভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৭৩টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও ২২২টি অকেজো রয়েছে।
জিন্নাগড় ইউনিয়নের জামাল মোল্লা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অনুমতি বা পরিবেশগত যাচাই ছাড়াই সাবমারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ পুকুর, খাল বা দূষিত উৎসের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।
উপসহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘সুপেয় পানি সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে স্থাপিত সাবমারসিবল পাম্পগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, অবৈধ সাবমারসিবল পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিংয়ের ৬০ ও ৬২ নম্বর প্লটে নির্মাণকাজ বন্ধ করে আড়াই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দিলে প্লট ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাইনমুনা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. কাউসার রহমান।
৪ মিনিট আগে
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও ডিএসসিসির উদ্যোগে প্রতীকী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পোশাক বিক্রি করা হয়েছে। ৫০ পয়সা থেকে পাঁচ টাকার মধ্যে পণ্য কেনার সুযোগ পেয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
৭ মিনিট আগে
ইমদাদুল ও নাইসের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। তাঁরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মজা করতেন। গতকাল রাতে দুজন গোবিন্দপুর গ্রামের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। সেখানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মজা করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
১১ মিনিট আগে
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের এলাহি নূর চা-বাগানসংলগ্ন সাহেবের রাস্তায় পাঠিয়ালছড়ি খালের ওপর নির্মাণাধীন ১২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা গত জুন মাসে। অথচ এ সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে মাত্র অর্ধেক কাজ। এ অবস্থায় ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
১৪ মিনিট আগে