
সম্প্রতি কাতারে একটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ঘটনার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তা নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই বার্তায় প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা না চালানো হলে ইরানও তাদের লক্ষ্যবস্তু করবে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এবং বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কৌশলগত ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে আদতে কোনো কার্যকর ক্ষমতা থাকে না।
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিওতে পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন তিনি এই শান্তির বার্তা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কাতার তাদের আকাশসীমায় (হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে) আসা অন্তত ১০টি ড্রোন ও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করে।
ইরানি রাজনীতি বিশ্লেষক রসুল সরদারের মতে, ইরানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা মূলত দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কাজ এবং ‘অকৌশলগত’ বিষয়গুলো পরিচালনা করেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদায় দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেও জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো ‘কৌশলগত’ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই বললে চলে।
ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর। বর্তমানে দেশটির সংবিধানে উল্লেখিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল’ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যার সদস্য হিসেবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান থাকলেও ক্ষমতার প্রকৃত চাবিকাঠি এখন সামরিক বাহিনীর হাতে।
বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের অপারেশন পরিচালনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখন দেশ যখন একটি ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন আইআরজিসির কমান্ডই চূড়ান্ত। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা করবে কি করবে না, তা সম্পূর্ণভাবে তাদের সদর দপ্তর থেকে নির্ধারিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বিশেষভাবে আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ওয়াহিদির কথা উল্লেখ করেছেন। ১ মার্চ তাঁকে এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওয়াহিদি আইআরজিসির ইতিহাসে অন্যতম ‘কট্টরপন্থী বা র্যাডিক্যাল কমান্ডার’ হিসেবে পরিচিত এবং তিনি কুদস ফোর্সেরও প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার ছিলেন।
ওয়াহিদির মতো একজন কট্টরপন্থী এবং ছায়াযুদ্ধের কারিগর যখন সরাসরি কমান্ডে থাকেন, তখন পেজেশকিয়ানের মতো নরমপন্থী রাজনীতিবিদদের পক্ষে দেশের নিরাপত্তা বা সামরিক নীতিতে সামান্যতম প্রভাব বিস্তার করাও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ার কথা।
ইরানের এই ‘ফায়ার অ্যাট উইল’ বা স্বাধীনভাবে হামলা চালানোর ক্ষমতার কারণে কাতার ছাড়াও বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন যে সশস্ত্র বাহিনীকে আর হামলা না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হামলাগুলো প্রমাণ করছে, সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা সেনাপ্রধানেরা সম্ভবত করছেন না।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্টান্ট বা শান্তিকামী ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তবে তেহরানের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপগুলো নির্ধারিত হবে মূলত আইআরজিসির সদর দপ্তর থেকে, প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে নয়। আঞ্চলিক উত্তেজনার এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের চেয়ে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথই আসল বাস্তবতা নির্ধারণ করবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত ৯ মে মস্কোতে রাশিয়ার বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি বলেন—ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়টি ‘সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে’ বলে তাঁর বিশ্বাস।
১১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের দমবন্ধ করা গরমে অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির হোঁচট খাওয়া অনেকের কাছেই ইঙ্গিত ছিল যে তাঁর এক দশকের শাসনের অবসান হয়তো সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তিনি আগা আরও এক দশক পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ চীনের সামনে এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছে বেইজিং। একই সঙ্গে এটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেকোনো যুদ্ধে প্রতিপক্ষও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
১৮ ঘণ্টা আগে