Ajker Patrika

সরকারি গাছ শ্রমিক লীগ নেতার করাতকলে, যুবদল নেতা বহিষ্কার

ভোলা প্রতিনিধি
সরকারি গাছ শ্রমিক লীগ নেতার করাতকলে, যুবদল নেতা বহিষ্কার
করাতকলে সরকারি গাছ ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ভোলার লালমোহনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সড়কের পাশের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা যুবদল।

গতকাল শনিবার রাতে ভোলা জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের সেলিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের সেলিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উপযুক্ত প্রমাণ পেলে যুবদল কোনো অন্যায়কারীকেই প্রশ্রয় দেবে না।’

সম্প্রতি লালমোহন উপজেলার কর্তারহাট বাজার থেকে রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের চার শতাধিক গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর নেতৃত্বে গত কয়েক দিন ধরে এক্সকাভেটর দিয়ে গাছগুলো উপড়ে নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ থেকে এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অক্টোবরের শুরুতে সড়ক সংস্কারের কথা বলে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি গাছ কাটা হয়। পরে গত সপ্তাহ থেকে চার শতাধিক গাছ কেটে রায়চাঁদ বাজারে ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিনের করাতকলে নেওয়া হয়। সেখানে মেহগনি, রেইনট্রি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের স্তূপ দেখা গেছে। পাশের বাগান ও বিলের মধ্যেও গাছের গুঁড়ি মজুত রয়েছে।

যুবদল নেতা বহিষ্কারাদেশ। ছবি: সংগৃহীত
যুবদল নেতা বহিষ্কারাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাটা গাছের একটি বড় অংশ ওই করাতকল ও আশপাশের বাগানে রাখা হয়েছে। জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে মনির নামের এক ব্যক্তি এসব গাছ কিনে রেখেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পেয়ে করাতকলের মালিক তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক আজ রোববার দুপুরে আজকের পত্রিকাকে বলেন, গাছ কাটার অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গাছগুলো কোন দপ্তরের এবং কারা কাটার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম উদ্দিন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি আগামীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। সে কারণে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত