Ajker Patrika

স্কুলের পাশে বাণিজ্য মেলার শৌচাগার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
স্কুলের পাশে বাণিজ্য মেলার শৌচাগার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
শ্রেণিকক্ষের পাশ থেকে মেলার শৌচাগার সরানোর দাবিতে বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষের পাশে চলমান বাণিজ্য মেলার জন্য স্থাপন করা গণশৌচাগারের দুর্গন্ধে শিক্ষা পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শৌচাগার সরানোর দাবিতে বুধবার বেলা ১১টায় নগরের সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে কয়েকশ শিক্ষার্থী মানববন্ধন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা শৌচাগার সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

জানা গেছে, নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জিলা স্কুলের মালিকানাধীন পরেশ সাগর মাঠে বাণিজ্য মেলা চলছে। মাঠের পাশেই কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষ। সেখান থেকে আনুমানিক ১০ গজ দূরে মেলার গণশৌচাগার করা হয়েছে। মেলার আয়োজক বরিশাল চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

আশপাশের আরও ৪ থেকে ৫টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পরেশ সাগর মাঠ ব্যবহার করেন। খেলার মাঠে মেলা আয়োজন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ উল্লেখ করে মেলা বন্ধের দাবিতে মানবাধিকারকর্মী রনি শিকদার হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মেলার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঈদুল আজহার দুই দিন আগে সরকারি ছুটির মধ্যে মেলার উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার ও বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অতিথি করা হলেও তারা কেউ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাননি।

ঈদুল আজহার ছুটির পর গত ৭ জুন থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ছুটির পর ক্লাসে ফিরে শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান হোসেন বলেন, “জানালা আটকে রেখেও শ্রেণিকক্ষে বসা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়বেন।”

আরেক শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম জানান, “টয়লেট তৈরি করার সময়ে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেলা কর্তৃপক্ষ শোনেননি। ঈদের ছুটির মধ্যে মেলা শুরু করা হয়। ছুটির পর স্কুলে ফিরে দেখি পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। এখন ক্লাসে বসা দায় হয়ে পড়েছে।”

বিদ্যালয়ের অভিভাবক এবং মুলাদী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনের চত্বরে অভিভাবকেরা অবস্থান করি। দুর্গন্ধে এখন আর সেখানে দাঁড়াতে পারছি না। শৌচাগার না সরালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।”

কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অলিউল ইসলাম জানান, গণশৌচাগার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অসহনীয় পরিবেশের বিষয়টি বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়দুল হক চান ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

বরিশাল চেম্বার সভাপতি এবায়দুল হক চান ফোন না ধরায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

চেম্বারের অন্যতম পরিচালক জিএম আতায়ে রাব্বী বলেন,`শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হলে বাণিজ্য মেলার অনুমতি দেওয়া প্রশাসন ও চেম্বারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বিষয়টি চেম্বারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত