Ajker Patrika

বরিশালে পুলিশ হেফাজতে গৃহবধূর মৃত্যু, নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব‌রিশাল
বরিশালে পুলিশ হেফাজতে গৃহবধূর মৃত্যু, নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ স্বজনদের
নিহত নাদিয়া বেগম। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে আটককৃত নাদিয়া বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

নিহত নাদিয়া উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের এনামুল হক মন্টু গাজীর স্ত্রী। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বাকেরগঞ্জ থানা-পুলিশ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কৃষ্ণকাঠি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নাদিয়াকে আটক করে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, আটককৃত নারীর কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং মাদক কারবারের নগদ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে আসামিকে বরিশাল জেলা কারাগারে পাঠানোর সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাঁর মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের স্বামী এনামুল হক অভিযোগ করেন, ভরপাশা ইউনিয়নের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজা বেআইনিভাবে পুলিশকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এনামুল হক বলেন, ‘আটকের সময় আমার স্ত্রীর কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। জমি দখলের উদ্দেশ্যে কোনো মামলা ছাড়াই ওসি আদিল হোসেন ও সেকেন্ড অফিসার এসআই তোফাজ্জল হোসেনকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। থানায় আটকে রেখে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ জানান, ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই নাদিয়াকে আটক করা হয়েছিল এবং আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে থাকা মাদকদ্রব্য (ইয়াবা) সেবনের কারণে এই মৃত্যু ঘটতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও চিকিৎসকের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টিতে তদন্ত চলছে।’

পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক-সংক্রান্ত অভিযানে কাউকে আটক করা হলে নানা ধরনের গুঞ্জন বা মন্তব্য তৈরি হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত