Ajker Patrika

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
বরগুনা আমতলীতে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার আমতলীতে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অজয় চন্দ্র হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে।

নিহত গৃহবধূর নাম সুপ্রিয়া। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের মা বাদী হয়ে জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের নামে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আজ শুক্রবার দুপুরে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বিমল ব্যাপারীর মেয়ে সুপ্রিয়ার বিয়ে হয় অজয় চন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই নানাভাবে সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করে আসছিল অজয় চন্দ্র। পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করছেন। এতে বাধা দেন স্ত্রী সুপ্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন অজয়।

প্রতিবেশীরা জানান, গতকাল রাতে স্বামীর পরকীয়া নিয়ে স্ত্রী সুপ্রিয়ার সঙ্গে ঝগড়া হয়। এ সময় তাঁর সন্তানদের সামনেই সুপ্রিয়াকে মারধর করেন অজয়। একপর্যায়ে পেটে সিজারিয়ান সেলাইয়ের জায়গায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তিনি। এতে গুরুতর আহত হন সুপ্রিয়া। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে অজয় ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান।

নিহতের মা দেপালী রানী বলেন, ‘অজয় চন্দ্র তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করত। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’

সুপ্রিয়ার মেয়ে মিথিলা বলে, ‘পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বাবা। আমি এর বিচার চাই।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, ‘হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সুপ্রিয়া মারা গেছেন।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। রমা রানী নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত