Ajker Patrika

১৩ কোটি টাকায় সড়ক সংস্কার, ১০ দিনেই গর্ত

  • পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড ১৯ কিলোমিটার অংশের সংস্কারের কাজ।
  • কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়।
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
১৩ কোটি টাকায় সড়ক সংস্কার, ১০ দিনেই গর্ত
ছবি: আজকের পত্রিকা

সংস্কারের পর স্বস্তির বদলে ভোগান্তিই যেন ফিরেছে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের পিচ উঠে গিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এখন বৃষ্টির মধ্যেই চলছে আবার সংস্কারকাজ। স্থানীয়রা বলছেন, বারবার সংস্কারের পরও কেন টেকসই হচ্ছে না গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক। তাঁদের অভিযোগ, দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ৭১ কিলোমিটার মহাসড়কের পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার অংশের সংস্কারের কাজ গত জুনে শেষ হয়। এ পথে চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের একটি বাসের চালক মো. বেল্লাল হোসেন জানান, কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বহু খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই অংশের সংস্কার করলেও মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আবারও সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। এখন বৃষ্টির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে পুনরায় সংস্কার করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বেল্লাল।

জানা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলের আওতাধীন। এই মহাসড়ক ২০০০ সালে নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দ তৈরি হতে থাকে। ২০১৮ সালে সড়কটির কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে ইটের খোয়া বের হয়ে এসেছে। এ দিন বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের ওই অংশে সংস্কারের কাজ করতে দেখা যায় সওজের লোকজনকে।

যাত্রী নাজমুল আহসান ও রাশেমুল হাওলাদার বলেন, কয়েক দিন আগেও তাঁরা সড়ক সংস্কারের কাজ হতে দেখেছেন। কিন্তু এখন আবার একই সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি সংস্কার কাজ ১০ দিনের মধ্যেই কেন নষ্ট হয়ে যাবে?

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বৃষ্টির মধ্যে সংস্কারকাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ছোট অবস্থায় খানাখন্দ মেরামত না করলে পরে তা বড় আকার ধারণ করে। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কাজ করতে হচ্ছে।

বৃষ্টির মধ্যে করা সংস্কারকাজ কতটা টেকসই হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু করার নেই, এটি সরকারের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত