Ajker Patrika

পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, মামলা জুলাই হত্যাকাণ্ডের

গনেশ দাস, বগুড়া 
পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, মামলা জুলাই হত্যাকাণ্ডের

পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রিপন ফকির। এরপর হাসপাতালে তিনি মারা। এই ঘটনা বদলে যায় জুলাই হত্যাকাণ্ডে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্তের পর পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে বগুড়ায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই ফেরদৌস আলী গত জুলাই মাসে বগুড়ার আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন।

মামলা ও তদন্তের নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর উপজেলার বানদীঘি ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও রিপনের স্ত্রী মাবিয়া বেগম ওই মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়া শহরের ঝাউতলা এলাকায় মিছিলে অংশ নিলে গুলিতে রিপন মারা যান। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বোন শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও আসামি ছিলেন। এজাহারে বলা হয়, মামলার ১ থেকে ১৩ নম্বর আসামির উসকানিতে এই হামলা হয়।

তদন্তে উঠে এল ভিন্ন চিত্র: তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটির তদন্তে ২২ জন সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়। এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার সময় ঝাউতলা এলাকার দোকানপাট ১ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ছিল। ওই এলাকার তিনজন দোকানকর্মী জানিয়েছেন, তাঁরা এমন কোনো ঘটনা দেখেননি। এ ছাড়া বাদীসহ সাতজন সাক্ষী জবানবন্দিতে বলেছেন, রিপন ফকির ৫ আগস্ট গোদারপাড়া এলাকায় পাউরুটি খাওয়ার সময় গলায় আটকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া রুটি খেয়ে রিপনের অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন দোকানিও।

মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী মাবিয়া বেগম বলেন, ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন তাঁকে বলেন, মামলা করলে রিপন ফকিরকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে এবং সরকারি অনুদান পাওয়া যাবে। সেই আশায় তিনি থানায় গিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফেরদৌস আলী বলেন, এজাহারে তথ্যগত ত্রুটি ছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত