Ajker Patrika

সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে যুবকের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি  
সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে যুবকের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু
হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আহত কাঠুরে সাইফুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম (২৮) নামে এক বাংলাদেশি কাঠুরের দুই পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি ৫২ পিলার এলাকার শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরের নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত সাইফুল ইসলাম দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ির সাবের আহমদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি ওই পয়েন্টে গোপনে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছিল। সেখানে সাইফুলসহ ৬ জন কাঠুরে কাঠ কাটতে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, সাইফুল, তাঁর দুই ভাইসহ মোট ৬ জন কাঠুরে সীমান্তের ৫২ পিলার এলাকার দড়দড়ি এলাকায় বাঁশ কাটতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো বেড়া বা সীমানা না থাকায় তাঁরা নিজেদের অজান্তেই শূন্যরেখায় পৌঁছে যান। এ সময় বিকট শব্দে একটি মাইন বিস্ফোরিত হলে সাইফুলের দুই পায়ের গোড়ালি উড়ে যায়।

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, সঙ্গীরা তাকে কাঁধে করে পাইনছড়ি স্টেশনে নিয়ে আসেন। তখন সকাল ১১টা। সেখান থেকে নৌকায় কালুর ঘাট এবং পরে ছোট ডাম্পার ট্রাকযোগে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ভাই আজিজ জানান, সাইফুলের দুই সন্তান রয়েছে এবং তারা স্কুলে পড়ে। বাঁশ ও গাছ কেটে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের মিয়ানমার অংশে ডুইল্যাঝিরি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সাইফুলের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমাত জাহান ইতু বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবুও তাঁরা যায়, যা কাম্য নয়।’

এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, জীবিকার প্রয়োজনে কেউ কেউ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাঁশসহ বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে যান। সেখানে ল্যান্ডমাইন ও সংঘাতের কারণে তাঁদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানো এবং নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত