
গত বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরে চার মাসের শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু দেড় মাস আগেই শুঁটকি উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। আলোরকোলসহ চরের কোনো কোনো শুঁটকিপল্লি সুনসান। কোথাও কোথাও খাঁ খাঁ করছে মাছ শুকানোর মাচা।
জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চরে জেলে ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ জলদস্যুদের অপহরণ ও চাঁদা দাবি। ফলে চলতি মৌসুমে শুঁটকি তৈরির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পূরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জেলেরা মনে করছেন।
সুন্দরবন বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের দুবলার চরে গত অক্টোবরের শেষ দিকে শুঁটকি উৎপাদনের মৌসুম শুরু হয়। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় বিভিন্ন চরের উদ্দেশে সে সময় শত শত ট্রলারে যাত্রা করেন জেলেরা। তাঁরা সামুদ্রিক মাছ আহরণ করে সেগুলো দিয়ে শুঁটকি তৈরি শুরু করেন। চলতি মৌসুমের চার মাস ধরে জেলেরা দুবলার চর, আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে অবস্থান করবেন। চরগুলোতে জেলেদের থাকার জন্য ৯০০টি ঘর ও ৮০টি দোকান তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাছ বেচাকেনার জন্য ডিপোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১০০টি। সুন্দরবনের এই শুঁটকি তৈরির খাত থেকে এবার ৭ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত মৌসুমে শুঁটকি থেকে বন বিভাগের ৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল।
সুন্দরবনের শেলার চরে থাকা জেলে মো. সোলায়মান বলেন, ‘শুঁটকি তৈরির জন্য ৪০-৪৫ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরি; কিন্তু এবারের মতো মাছ সংকট কখনো দেখিনি। একে তো মাছ কম, তার ওপর জলদস্যুদের ভয়। জেলেরা সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এই দস্যুতা বন্ধ না হলে জেলেরা অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হবেন।’
গত বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে দুবলার চরের আলোরকোলের শুঁটকি ব্যবসায়ী ও রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো. মোতাসিম ফরাজীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে সাগরে তেমন মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। তাঁরা যে মাছ পাচ্ছেন, লাভ তো দূরের কথা, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানি খরচও উঠছে না। আলোরকোলের মাছ শুকানোর মাচা এখন খাঁ খাঁ করছে। তা ছাড়া সুন্দরবনে দস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। জেলেরা মাছ ধরতে সাগরে যেতে পারছেন না।
শুঁটকি ব্যবসায়ী মোতাসিম ফরাজী আরও বলেন, বিভিন্ন সময় আত্মসমর্পণকারী দস্যু এবং নতুনভাবে সংগঠিত দস্যুদল মিলে জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দস্যু বাহিনীগুলো সুন্দরবনে আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মৎস্যজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় দুবলার জেলেপল্লিসহ উপকূলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের দক্ষিণ অঞ্চলে দস্যুদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। প্রায় সময়েই দস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে জিম্মি এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করছে।
মোতাসিম ফরাজী বলেন, এসবের ফলে জেলে ও মহাজনদের মুখে হাসি নেই। সব জেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে আছেন। তাঁরা ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
দুবলার চর থেকে মোবাইল ফোনে দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এবারের শুঁটকি মৌসুম ভালোভাবে শুরু হলেও বর্তমানে হঠাৎ জেলেরা সাগরে মাছ কম পাচ্ছেন। এ জন্য তাঁরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, দস্যুরা বেপরোয়াভাবে জেলেদের ওপর হামলা করে তাঁদের অপহরণ করছে। ট্রলার ও নৌকা নিয়ে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে গেলে দস্যুরা ধাওয়া করছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিলটন রায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমানে জেলেরা সাগরে তেমন মাছ পাচ্ছেন না। জেলেরা মাছ না পাওয়ায় বন বিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানীর উত্তরায় বাসা ভাড়া নিয়ে চীনা নাগরিকেরা তৈরি করতেন শরীর থেকে মন আলাদা করার মতো ভয়ানক নেশাজাতীয় কৃত্রিম মাদক ‘কেটামিন’। আর এসব মাদক সাউন্ড বক্সে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে চোরাচালান করা হতো শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও চীনে। এ ঘটনায় তিনজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৬ মিনিট আগে
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিন জেলায় চলছে চাঁদাবাজির মচ্ছব। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির আগে যেখানে কেবল একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপকে চাঁদা দিতে হতো, সেখানে বর্তমানে অন্তত পাঁচটি গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত। মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে আদায় করা এই চাঁদা...
৩৩ মিনিট আগে
‘এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ’—এমন লেখা সেঁটে দেওয়া হয়েছে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সামনে। কক্ষটি তালাবদ্ধ। রোগীরা জানিয়েছেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে এক্স-রে করা হচ্ছে না।
১ ঘণ্টা আগে
‘ও বেটা, একবার ডাকো বেটা। ওরে আমার মানিক বেটা, ওরে আমার কাইলি বেটা, আমাকে দেখপি (দেখবে) কেরে বেটা’ বলে বিলাপ করে কাঁদছিলেন ট্রাকচাপায় নিহত দিনমজুর বাবুল আলীর মা। তাঁর সেই কান্না শুনে আশপাশের মানুষের চোখ ভিজে যায়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুরের দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের ভেল্লাবাড়িয়া (নগরকয়া)...
১ ঘণ্টা আগে