
বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
হামলায় ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জেলার চারটি আসনের মধ্যে বাগেরহাট ১, ২ ও ৪—এই তিন আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। আর বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয় পান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার ও মশিউর রহমানসহ পাঁচ থেকে ছয়জনের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক এই ঘটনা ঘটান।
এ ঘটনার জেরে আজ সকালে বিএনপি নেতা মিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ সাত থেকে আটজন বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইমরান ও তারেক নামের দুজনকে আটক করেছে।
ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা
জেলার কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া এলাকায় বিএনপি প্রার্থী ভোট কম পাওয়ায় শেখ আব্দুস সালাম নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি চন্দ্রপাড়া গ্রামে।
আব্দুস সালামের ছেলে নাহিদ হাসান অভ্র বলেন, ‘আজ সকালে স্থানীয় বাজার থেকে সার কিনে বাড়ি ফেরার পথে ফতেপুর বাজারের কাছে একদল সন্ত্রাসী রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার বাবার পথ রোধ করে।

স্থানীয় বিএনপির সমর্থক শামীম শেখ, আমিন শেখসহ ওই সন্ত্রাসীরা আমার বাবার কাছে প্রশ্ন করে—‘ধানের শীষ কেন্দ্রে ভোট কম পেল কেন, তোরা কী করছিস।’ বাবা তাদের বলে, ‘আমি এখানের ভোটার না।’ তখন তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে আমার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে যায়।’
অপর দিকে কচুয়া উপজেলার গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে প্রতিপক্ষের মারধরে আসাদ মোল্লা, মোশারেফ শেখ ও শফিক মীর নামের বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন।
আহত কর্মীদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থক মিজান শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন আসাদ মোল্লা ও মোশারেফকে মারধর করে। শরীফ শিকদার ও সজীব শিকদার মারধর করেন শফিক মীরকে।
এ ছাড়া কচুয়ার বাধাল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে।
মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই আসনে বিজয়ী প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, ‘দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।’
আব্দুল আলীম জানান, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে দিচ্ছে। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় বিপরীত কিছু ঘটে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

একই অভিযোগ করে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পরাজিত ও বিজিত প্রার্থীর সমর্থকেরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা করছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের মারধর, বাড়িঘরে হামলা করেছে, হুমকি-ধমকি দিচ্ছে; যা মোটেই কাম্য নয়। আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
তবে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ‘আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছি। নির্বাচন হয়ে গেছে, সবাই মেনে নিয়েছে। এখন সংঘাতের কোনো কারণ নেই। এগুলোর সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসনকেও আমি কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।’
জানতে চাইলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ আসছে। ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে। যেকোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেসব ঘটনা ঘটেছে, জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’

ফরিদপুরের সালথায় ভোট দেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২৩ মিনিট আগে
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারি চুরির অভিযোগে ইমন (৯) নামে এক শিশুকে ঘরে আটকিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আতাহার আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম ইমন (৯)।
৩০ মিনিট আগে
মুন্সিগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় মো. জসিম নায়েব (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আব্দুল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জসিম নায়েব ওই এলাকার মাফিক নায়েবের ছেলে।
৩২ মিনিট আগে
হান্নান মাসউদ বলেন, ‘এই কয়দিনে পুরো হাতিয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে। মানুষের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি পোড়ানো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলাসহ নানা অপকর্ম করা হয়েছে। হাতিয়ার ইতিহাসে এমন তাণ্ডব আর কোনো নির্বাচনে কখনো চালানো হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’
৩৪ মিনিট আগে