Ajker Patrika

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার: তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল চেয়ে উল্টো মামলা করলেন প্রধান শিক্ষক

বাগেরহাট ও চিতলমারী প্রতিনিধি
দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার: তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল চেয়ে উল্টো মামলা করলেন প্রধান শিক্ষক
কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনকে অন্যায়, বেআইনি ও বাতিল দাবি করে উল্টো সিভিল জজ আদালতে মামলা করেছেন বাগেরহাটের চিতলমারীতে কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম। মামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পাঁচ সহকারী শিক্ষকসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ইউএনও, ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ সোমবার আদালতের নোটিশ পাওয়ার পর ইউএনও খাদিজা আক্তার ও ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ওই বছরের ২৬ নভেম্বর নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে।

নিরীক্ষা কমিটিসহ বিদ্যালয়ের সাতজন সহকারী শিক্ষক ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইউএনওর কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ দেন। ইউএনও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।

পরে তদন্তকাজ সুষ্ঠু ও দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করা হয়। তবে সমবায় কর্মকর্তা মোল্লা সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান একাই একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি ২০২৬ সালের মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপিত হলে ইউএনও বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদকে অধিকতর নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধিসম্মত ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আল মুরাদ চলতি বছরের ১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেন। এরপরই প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল চেয়ে চিতলমারী সিভিল জজ আদালতে মামলা করেন।

এ বিষয়ে বিধান চন্দ্র ব্রহ্মের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মামলার বিবাদী প্রভাত কুমার মজুমদার, সুশান্ত কুমার ব্রহ্ম ও স্মৃতি রাণী ঘরামী জানান, বিগত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় তাঁরা বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ইউএনও দুজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান একাই তদন্ত রিপোর্ট দেন। ওই রিপোর্ট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় ইউএনও বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে ইউএনওর কাছে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আল মুরাদ ১ জুলাই নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধিসম্মত ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। সে জন্য প্রধান শিক্ষক তাঁদের সবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

স্মৃতি রাণী ঘরামী বলেন, ‘এটা অন্যায়। আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে জবাব দেব।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদ বলেন, ‘তদন্তে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির তিন সদস্যের হিসাব সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। গতকাল (রোববার) মামলার নোটিশ পেয়েছি।’

ইউএনও খাদিজা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অধিকতর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্মের করা মামলার নোটিশ পেয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত