Ajker Patrika

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের আহ্বান

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ২০: ৪১
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি: আজকের পত্রিকা

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ আয়োজিত এ সভায় বক্তারা বিচার, সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভার শুরুতে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক রাশিদুল হক তিমু বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে গণহত্যা ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত হলে রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনের পথ আরও সুগম হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত্তি ছিল ১৯৭২ সালের সংবিধান।

দিলারা চৌধুরির অভিযোগ, জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞ ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে ট্রানজিশনাল জাস্টিস নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ ন্যায়বিচার না পেলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তিনি সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়েও বক্তব্য দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের অন্য নাগরিকেরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছিল।

জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রশ্নে আগে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার দাবিকারীরা দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তদন্তে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার দাবি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা এবং সে সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ আইনজীবী বলেন, সংস্কার কমিশনের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা, যাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত না থাকে। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এ প্রক্রিয়ায় তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত