Ajker Patrika

গ্যাসসংকটে নারায়ণগঞ্জে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইন, কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ২২: ০৯
গ্যাসসংকটে নারায়ণগঞ্জে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইন, কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত
গ্যাস নিতে ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। আজকের পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের সংকট এবং চাপ কম থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ফলে গ্যাসের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে। অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে করে ভোগান্তি বাড়ছে যানবাহন চালকদের।

গ্যাসসংকট ছড়িয়ে পড়েছে শিল্প কারখানাতেও। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল এবং জেনারেটর দিয়ে বাড়তি ব্যয়ে আংশিক উৎপাদন ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

যানবাহনের চালকেরা জানান, কয়েক দিন ধরেই তারা বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে ঠিকমতো গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাদের দাবি, আগে অল্প সময়েই গ্যাস পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ২-৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস মিলছে না।

সিএনজিচালিত অটোচালকেরা জানান, ফিলিং স্টেশনে ২-৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র ১০০ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত যাওয়াই সম্ভব হয় না। দৈনিক জমা-খরচও উঠে আসছে না।

সংকটের বিষয়ে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল বলেন, বুধবার থেকে ২-৩ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছি, যা দিয়ে কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা যায় না। শুধু বয়লার চালিয়ে রাখতে পারছি। তিতাস থেকেও সুস্পষ্ট কিছু বলা হচ্ছে না। বিষয়টি আমাদের ব্যবসায়িক দিক থেকে লোকসানে ফেলছে।

এ দিকে গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা জানাতে ব্যর্থ তিতাস কর্তৃপক্ষ। কেন এই সংকট তৈরি হয়েছে তারও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ফলে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কারখানা মালিক এবং পরিবহন চালকেরা।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কক্সবাজারে এলএনজি লাইনে ত্রুটির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গতকালই এই ত্রুটি সারিয়ে ফেলার কথা। কিন্তু এখনো তা হয়নি। ফলে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকা বেল্টে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না। এতে শিপমেন্টেও বিলম্ব হবে।

হাতেম আরও বলেন, যেকোনো দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় বারবার আমরা ভুক্তভোগী হই। আমরা চাই, বাংলাদেশ ব্যাংক যেন আমাদের দিকে সদয় দৃষ্টি রাখেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত