
একেই তো ডিজেল, বিদ্যুতের অভাবে আবাদি জমিতে সেচ দিতে নাজেহাল অবস্থা কৃষকের, তার মধ্যে ‘গোদের ওপর বিষফোড়া’ হিসেবে দেখা দিয়েছে ট্রান্সফরমার চুরির প্রবণতা। সব মিলিয়ে শারীরিক, আর্থিক, মানসিক সংকটে একেবারে জেরবার কৃষকেরা।
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটে কয়েক মাস ধরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন বোরো আবাদে নিয়োজিত কৃষকেরা। কেননা, বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্পগুলো সচল রাখতে ট্রান্সফরমার অপরিহার্য। সেচপাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক শক্তি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে আসে। এটি উচ্চ ভোল্টেজকে কম ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে সেচপাম্পের মোটর চালানোর উপযুক্ত করে তোলে।
চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও দীর্ঘসূত্রতায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা। এতে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচও।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর হালুয়াঘাট জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যুতের মোট গ্রাহক প্রায় ৬৫ হাজার। এর মধ্যে সেচ গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। সেচকাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ ট্রান্সফরমার মাঠের নির্জন স্থানে স্থাপিত হওয়ায় সেগুলো চোর চক্রের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার আর্থিক ক্ষতি কয়েক লাখ টাকা।
পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংযোগে ট্রান্সফরমার বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হলেও চুরি হলে গ্রাহককে পুরো মূল্য পরিশোধ করে নতুন ট্রান্সফরমার কিনে নিতে হয়। চুরির পরপরই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে না পারায় পুনঃসংযোগে বিলম্ব হয়। এতে বিদ্যুৎ-নির্ভর সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে কৃষকেরা পড়ছেন বড় ধরনের দুর্ভোগে। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাঁদের মধ্যে।
সবশেষ ১৯ এপ্রিল রোববার উপজেলার ধারা ইউনিয়নের কুতুরা গ্রামে একটি সেচপাম্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। একই রাতে তিনটি ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা তামার তার খুলে নিয়ে যায় চোরেরা। এসব ট্রান্সফরমারের আওতায় প্রায় ১০০ একর জমিতে সেচ দেওয়া হতো। ফলে জমির মালিক ও কৃষক উভয়ই চরম সংকটে পড়েছেন।
এর আগে ধুরাইল ইউনিয়নের গোরকপুর গ্রামে ক্বারী আলমাছ উদ্দিনের সেচপাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। নতুন ট্রান্সফরমার সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রায় অর্ধলাখ টাকা তাৎক্ষণিক খরচ করার মতো অবস্থা বেশির ভাগ কৃষকেরই থাকে না।
কুতুরা গ্রামের সেচপাম্পের ম্যানেজার ফুজায়েল মণ্ডল বলেন, ‘আমার সেচপাম্পের আওতায় প্রায় ১০০ একর জমিতে আবাদ হয়। বৃষ্টির কারণে রাতে বিদ্যুৎ ছিল না। সেই সুযোগে চোরেরা ট্রান্সফরমারের ভেতর থেকে তামার তার বের করে নিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
স্থানীয় কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে সেচ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আবার ট্রান্সফরমার চুরি যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাবে কৃষক। সামনে যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে জমিতে রোপণ করা বোরো ধান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
গোরকপুর গ্রামের কারি আলমাছ উদ্দিন বলেন, ‘আমার পাঁচ কিলোভোল্টেজ (কেভি) ক্ষমতার ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ায় নতুন করে সংযোগ নিতে প্রায় ৫৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য এ খরচ বহন করা খুব কষ্টের। চোরচক্র শনাক্তে পুলিশের সহযোগিতা চাই।’
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর হালুয়াঘাট জোনালের উপমহাব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরির প্রতিটি ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ট্রান্সফরমারের ভেতরের কয়েলের কারণেই মূলত এসব চুরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় চুরির প্রবণতা বেড়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।’
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম বলেন, ‘গত রোবারের ঘটনায় থানায় লিখিত ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি রোধে বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং চোর ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। প্রিয় দলের পতাকা ও ব্যানারে ঘরবাড়ি সাজানোর দৃশ্য নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই উন্মাদনাকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পরিবহন ব্যবসায়ী ও ‘মাকসিম ট্রাভেলস’-এর স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া মাকসিম।
১১ মিনিট আগে
জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের পাওয়ার কার লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে, লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধার করতে যাওয়ার পথে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়েছে।
৩৯ মিনিট আগে
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তাঁর নিজ কর্মস্থল এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। অথচ নেত্রকোনার আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন ঢাকার সাভারে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
৪২ মিনিট আগে
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ফলে প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ভোগান্তি চললেও সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে...
১ ঘণ্টা আগে