Ajker Patrika

আবরার হত্যার ৭ বছর: আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের অপেক্ষা

  • বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
  • বিচারিক আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আবরার হত্যার ৭ বছর: আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের অপেক্ষা
আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর শিবির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্মমভাবে তাঁকে পেটানো হয়। শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান নির্যাতনকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে।

দেশজুড়ে তোলপাড় হওয়া সেই ঘটনায় করা মামলা বিচারিক আদালতের পর নিষ্পত্তি হয়েছে হাইকোর্টেও। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৭ বছরেও রায় কার্যকর করা যাচ্ছে না। আপিল নিষ্পত্তি করে দ্রুত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছে বাদীপক্ষ।

মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনার কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো মামলায় বিলম্ব ঘটাতে চাই না। এই মামলা যখনই শুনানি শুরু হবে আমরা কোনো মুলতবি চাইব না। মানুষ দেখতে চায়, রায় দ্রুত কার্যকর হয়েছে। রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে একটি বার্তা যাওয়া উচিত যে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ভিন্নমতের ব্যক্তিদের ওপর এমন নির্মম ঘটনা যাতে কেউ ঘটানোর সাহস না পায়।’

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ২৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

রায়ে আদালত বলেছিলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর কখনো না ঘটে সে জন্য সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য নথিপত্র ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন আসামিরা। শুনানি শেষে গত বছরের ১৬ মার্চ বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে ৩ মে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসামিরা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আপিল বিভাগে মামলা তারিখের ক্রমানুসারে শুনানি হয়ে থাকে। যদিও প্রধান বিচারপতি চাইলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান তিনি।

হাইকোর্টের রায়ের পর সন্তুষ্টি জানিয়ে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেছিলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো আবরারকে জীবন দিতে না হয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, তা নিশ্চিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে র‍্যাগিংমুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত