Ajker Patrika

এক সপ্তাহে মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি 
এক সপ্তাহে মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা
গাংনীর দেবীপুর মরিচের বাজার থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের গাংনীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, সেখানে বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তা বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।

দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও টানা বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। জমিতে পানি জমে গেলে এবং পরে রোদ উঠলে মরিচগাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

বুধবার সকালে সরেজমিন উপজেলার দেবীপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে জমি থেকে মরিচ তোলা কমে গেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।

গাংনী উপজেলার কয়েকজন মরিচচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় মরিচ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন এ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বর্তমানে ভালো দাম পাওয়ায় তাঁরা লাভের আশা করছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

মরিচচাষি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার কৃষকেরা পতিত ও আবাদি জমিতে মরিচ চাষ করেন। লাভ বেশি হওয়ায় চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। আজ বাজারে মরিচ ১৯০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।’

করমদী মাঠের চাষি দেলশাদ আলী বলেন, ‘মরিচের বস্তা দেখলেই ব্যবসায়ীরা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।’

আরেক চাষি ইমরান হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছরই মরিচ চাষ করি। আবহাওয়া ভালো থাকলে অল্প সময়ে ভালো লাভ হয়। তবে টানা বৃষ্টি হলে গাছের গোড়া নরম হয়ে যায়। পরে রোদ উঠলে অনেক সময় গাছ মারা যায়, এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।’

মরিচ ব্যবসায়ী মো. ইনজাল হোসেন বলেন, ‘মরিচের বাজারদর ওঠানামা করে, আগাম বলা কঠিন। গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও আজ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। বৃষ্টির কারণে আমদানি কমেছে, তাই দাম বেড়েছে।’

দেবীপুর বাজারের ইজারাদার মো. মিন্টু মিয়া বলেন, ‘কোনো দিন বাজারে ৫ হাজার কেজি, কোনো দিন ৪০ হাজার কেজি পর্যন্ত মরিচ আসে। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমেছে।’

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং মরিচের দাম ভালো থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। বর্তমানে মরিচের বাজার ভালো রয়েছে। তবে মৌসুমি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জমিতে নালা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত