Ajker Patrika

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন: ৩ নারী শূন্যরেখায়, দেশের ভেতরে ঢুকেছে ৫ জন

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮: ১১
পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন: ৩ নারী শূন্যরেখায়, দেশের ভেতরে ঢুকেছে ৫ জন
সীমান্ত এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৮ ব্যক্তিকে পুশ ইনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে ৫ জন নারী-পুরুষ ইতিমধ্যে দেশের ভেতরে ঢুকেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫ ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এ বিষয়ে জানতে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ৩ জন নারীকে বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করে। তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে। ওই তিন নারী বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় রয়েছে।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৯ নম্বর উপপিলারের একদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া। অপর দিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া। শনিবার ভোরে এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করে।

সকালে এ ঘটনা বুঝতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসী ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধবলসূতি ক্যাম্পের টহল দলকে খবর দেয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে বিজিবি গিয়ে ৩ জন নারীকে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়। বর্তমানে ওই নারীরা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়েছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ওই দিন রাতে ৮ জন নারী-পুরুষকে পুশ ইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে সকালের ট্রেনে দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুশ ইনের শিকার নারী ও পুরুষেরা দাবি করে, তাঁদের বাড়ি খুলনা ও নড়াইল জেলায়। বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এদিকে পুশ ইনের শিকার ৫ নারী-পুরুষ বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনে আসলে স্থানীয়রা তাঁদের আটক করেন। তখন তাঁরা নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করেন। পুশ ইনের শিকার আকরাম হোসেন (৫০) ও শেখ রাবেয়াসহ (৪০) পাঁচ ব্যক্তি জানান, তাদের কয়েকজনের বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা থানার বারাসাত গ্রামে ও নড়াইল জেলায়।

এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৮ নম্বর উপপিলার সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন ও ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন কথা বলেন। বিজিবি জানায়, এ সময় বিএসএফকে পুশ ইন করা ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত নিতে বলা হয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা অধিনায়ক পর্যায়ে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

পুশ ইন ও পাঁচ ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়ে জানতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ ফজলে মুনিম ও সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। খুদে বার্তা দিলেও কোনো সাড়া দেননি তাঁরা। তবে ধবলসূতি বিজিবির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩ জনকে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। অন্যদের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ নেই। বিএসএফকে এদের ফেরত নিতে বলা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত