Ajker Patrika

ইবির শিক্ষিকা হত্যা: ৪ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ, থামছে না স্বজনদের আহাজারি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৯: ০০
ইবির শিক্ষিকা হত্যা: ৪ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ, থামছে না স্বজনদের আহাজারি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৮) হত্যার ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ করেন।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তানে আসমা সাদিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. ইয়াকুব আলীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বুধবার নিহত শিক্ষিকার মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। সকাল ১০টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্ত্রী নিহতের সংবাদে স্বামী ইমতিয়াজ সুলতানকে কোনো অবস্থায় শান্ত করা যাচ্ছে না। প্রায় এক যুগ বিবাহিত জীবনে তাঁদের তাইবা (৯), তাবাসসুম (৭), আয়েশা (৭ মাস) নামের তিন কন্যাসন্তান ও সাজিদ (৫) নামের এক ছেলেসন্তান রয়েছে।

হাসপাতাল থেকে রুনার মরদেহ শহরের কোর্টপাড়ার বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তিন শিশুসন্তান বারবার ছুটে যাচ্ছে মায়ের মরদেহের কাছে। মায়ের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছে তারা।

এ সময় কথা হয় নিহত রুনার মামা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর বোনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। আসমা তাঁর একমাত্র ভাগনি। আসমার বাবা শ ম আশিকুল হক এলজিইডিতে চাকরি করতেন।

বাবা আশিকুল হক বিলাপ করে বলেন, ‘আমার অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে। এই মেয়ে আমার বড় মেয়ে। এখন তার চারটা বাচ্চা এতিম হয়ে গেল। মা ছাড়া এই এতিম বাচ্চাদের কী হবে। কে দেখবে এখন তাদের। ছোট বাচ্চাটাই কীভাবে মানুষ হবে মাকে ছাড়া।’

তবে কর্মচারী ফজলুর রহমানকে অন্য বিভাগে বদলি ও বেতনসংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হলেও তা মানতে নারাজ নিহত শিক্ষিকার স্বামী ও স্বজনেরা।

তাঁদের দাবি এর পেছনে অন্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার সহকর্মী ও স্বজনেরা জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

এ ছাড়া শিক্ষিকা আসমা সাদিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফজলুর রহমান এখন শঙ্কামুক্ত। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম আজকের পত্রিকাকে জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার ডান পাশে নিচের দিকে গভীর আঘাতের চিহ্ন আছে। তাঁর গলার রক্তনালি কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। শরীরে ১৮ থেকে ২০টি জখমের চিহ্ন আছে।

হোসেন ইমাম জানান, এ ঘটনায় আহত ফজলুর রহমানের অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত। শ্বাসনালি কেটে যাওয়ায় তিনি কথা বলতে পারছেন না। তবে ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন। পুলিশ তাঁর লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে।

আরএমও আরও জানান, ফজলুর রহমানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁকে পরিবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানও নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত