Ajker Patrika

কুষ্টিয়ায় জেল ভেঙে পালানো ১২৪ মামলার আসামি ফের গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়া (দৌলতপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৪
কুষ্টিয়ায় জেল ভেঙে পালানো ১২৪ মামলার আসামি ফের গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার আনিছুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

জেল ভেঙে পালিয়েছিলেন শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার ১২৪ মামলার আসামি মো. আনিছুর রহমান। পাক্কা দুই বছর পর ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক সোহাগ শিকদারের নেতৃত্বে এএসআই শরিফুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাশেদুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও র‍্যাবের সহায়তায় অভিযানটি চালায়।

গ্রেপ্তার আনিছুর রহমান কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ২০০৬ সালে আলাউদ্দিন নগর এলাকায় তিনি ‘বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি এনজিও গড়ে তোলেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় বিশ্বাস ফাউন্ডেশন।

পরবর্তী কয়েক বছরে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা ও ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক শ শাখা বিস্তৃত করা হয়। ডিপিএসের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজারো গ্রাহকের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আনিছুরের বিরুদ্ধে। ওই টাকা দিয়ে তিনি নিজের নামে জমি, বাড়ি ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

২০২৩ সালের নভেম্বরে কর্মীরা আমানতকারীদের জমানো টাকার জন্য চাপ দিলে আনিছুর এনজিওর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে প্রায় ১২৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর সাজা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর চেষ্টাকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুলিশ আনিছুরকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠায়। একই বছরের ৭ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের মধ্যে আনিছুরও ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার আনিছুরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই শত শত ভুক্তভোগী কুমারখালী থানা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।

রাজবাড়ীর পাংশা এলাকার আব্দুল মাজেদ (৬৪) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গার্মেন্টসে চাকরি করে জমানো দেড় লাখ টাকা চার বছরে দ্বিগুণ হবে, এই আশায় রেখেছিলাম। আনিছ সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে সব শেষ করে দিল।’

শিলাইদহের ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন বলেন, ‘বেতন, বোনাস, জমি ইজারা এবং গরু-ছাগল বিক্রির মোট ৩০ লাখ টাকা আনিছের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। এনজিওর নামে ও সদস্যদের প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।’

আনিছুরের ভাগনি বিনা খাতুনও প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিগুণ লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন সব শেষ। হয় আমাদের টাকা ফেরত দিক, না হলে ওর ফাঁসি চাই।’

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দ্বিগুণ লাভের ফাঁদে ফেলে আনিছুর সুকৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। গত বছরের ৭ আগস্ট জেল ভেঙে পালানোর পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

জামাল উদ্দিন আরও বলেন, আজ বিকেলে আনিছুরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত