Ajker Patrika

রঙিন আমে নতুন স্বপ্ন

  • সবুজ পাহাড়ের ঢালে চার বছরের প্রচেষ্টায় বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম ধরেছে
  • জাপান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বহু জাতের আম শোভা পাচ্ছে বাগানটিতে
হিমেল চাকমা, রাঙামাটি 
রঙিন আমে নতুন স্বপ্ন
বিদেশি জাতের আমগাছের ফলন দেখাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা চিকু চাকমা। রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালি ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মরিশ্যাবিলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালি ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মরিশ্যাবিল। এখানে সবুজ পাহাড়ের ঢালে বিশাল এলাকাজুড়ে শোভা পাচ্ছে লাল, বেগুনি আর সোনালি রঙের নানা জাতের বিদেশি আম। গ্রীষ্মের মৌসুম ঘিরে জানান দিচ্ছে সুস্বাদু ফল উৎপাদনে এক নতুন সম্ভাবনার কথা।

দুই তরুণ উদ্যোক্তার গত ৪ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় মরিশ্যাবিলে গড়ে উঠেছে জনপ্রিয় বিদেশি আমের এমনই এক বিশাল রাজ্য। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাগানটিতে বর্তমানে দেশি-বিদেশি ৩৫টিরও বেশি জাতের আম থোকায় থোকায় ঝুলছে। বাগানটির বিশেষ আকর্ষণ বিশ্বখ্যাত জাপানি রঙিন আম ‘মিয়াজাকি’ বা ‘সূর্য ডিম’।

এ ছাড়া বাগানটিতে আবাদ হয়েছে থাইল্যান্ডের সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ৭ জাতের আম–ব্ল্যাক স্টোন, কিউজাই, রেড আইভরি, কিং অব চাকাপাত, সি মুয়াং, থ্রি-টেস্ট ও ডকমাই আম। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মেরিট দ্বীপে উদ্ভাবিত উন্নত জাতের আম অস্টিন ও মিয়ামির রেড পালমার ও ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড; অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় আম কেনসিংটন প্রাইড ও কুইন্সল্যান্ডে উদ্ভাবিত আরটু ইটু; ভারতের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত পুসা সুরিয়া, পুসা অরুনিমা ও আম্রপালির কন্যাখ্যাত ভারতের জনপ্রিয় আম অম্বিকা, বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আমের মধ্যে অন্যতম গোলাপখাস; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া অঞ্চলের হাইব্রিড জাতের আমব্রুনাই কিং; বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত বারি-১৩, বারি-৪, কাঁচামিঠা ও বারোমাসিসহ ৩৫ প্রজাতিরও অধিক আম চাষ হয় বাগানটিতে।

বাগানটির উদ্যোক্তারা জানান, তাঁরা এখানে বাগিং পদ্ধতিতে (বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে ফল ঢেকে দেওয়া) বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন করছেন। এসব আম এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারে রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। প্রতিবছরই বাগানটির পরিধিও বাড়ছে।

জানতে চাইলে বাগানটির উদ্যোক্তা চিকু চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে এত উন্নতমানের আম উৎপাদন সম্ভব, তা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। দীর্ঘ চার বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর এই সাফল্য দেখে সব কষ্ট ভুলে গেছি। এ বছর বাগান থেকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’

অপর উদ্যোক্তা পলাশ চাকমা বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই আম বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়া এবং রাঙামাটির আমকে ব্র্যান্ডিং করা। এ জন্য যা যা করণীয় তা আমরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী করছি। ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে আমাদের আমের গুণগত মান আন্তর্জাতিক স্তরের। সরকারের পক্ষ থেকে একটু সহযোগিতা পেলে আমরা খুব দ্রুতই বিদেশে এই আম রপ্তানি শুরু করতে পারব।’

বাগানটির আম বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানান রাঙামাটির কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা। তিনি বলেন, ‘আমি পুরো বাগান ঘুরে দেখেছি। বলতে গেলে রাঙামাটিতে এটি অসাধারণ একটি বাগান। চার বছরের ব্যবধানে বাগানটি দারুণ রূপ নিয়েছে। এই বাগানের আমের মান অত্যন্ত চমৎকার এবং আন্তর্জাতিক মানের। এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং নিশ্চিত করা।’

রাঙামাটি সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ দেওয়ান বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তারা পাহাড়ের কৃষিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। চার বছর ধরে তাঁদের এই প্রচেষ্টার সঙ্গে কৃষি বিভাগ পাশে ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত